নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের ডাকাতিয়া নুরপুর গ্রামের জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনাটি আর কেবল পারিবারিক শত্রুতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—এটা ছিল ঠান্ডা মাথার পূর্বপরিকল্পিত প্রতিশোধ। আর সেই পরিকল্পনার মূল হোতা ছিলেন নিহতের চাচাতো ভাই আশিক, যিনি শেষ পর্যন্ত পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা-নির্ভর অভিযানে ধরা পড়েছেন লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার গুচ্ছগ্রাম এলাকায়।
সোমবার গভীর রাতে কোতোয়ালি থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে বিশেষ একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার সূত্র বলছে, গত ৯ জুন বিকেলে পারিবারিক জমিজমা নিয়ে সংঘাতের জেরে মইন উদ্দিন নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় আহত হন তার বড় ভাই জমির উদ্দিন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মইন উদ্দিনের মৃত্যু হলে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরিবারের দায়ের করা মামলায় মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়—এর মধ্যে আশিকের বাবা, মা, ভাই এবং প্রতিবেশী দুই জনও রয়েছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ আশিকের মা আলেয়া খাতুনকে গ্রেপ্তার করে। তবে আশিকসহ অন্যরা পলাতক ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আশিকের পূর্বশত্রুতা ও জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ভূমিকা রেখেছে। তিনি আত্মগোপনে থাকার সময় একাধিক আত্মীয়ের বাড়ি ঘুরে অবশেষে আশ্রয় নেন খালার শ্বশুরবাড়িতে, সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়। কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসনাত বলেন, “আশিকের বিরুদ্ধে আরও অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ থাকলেও সে এককভাবে পরিকল্পনা করে এই হত্যা ঘটায়। আমরা অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।” এই ঘটনায় আবারও প্রমাণ হলো, জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক দ্বন্দ্ব কেমন করে রক্তাক্ত প্রতিশোধে রূপ নিতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে পারিবারিক বিরোধের সমাধানে সক্রিয় ভূমিকার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

