২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

স্বাগত ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও ইরান সম্পূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। আলজাজিরার খবরে বলা হয়, তিনি জানিয়েছেন যে এই যুদ্ধবিরতি এক পর্যায়ে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাবে। কিন্তু এর পরও উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে এবং হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এরই মধ্যে ১২ দিন অতিক্রম করেছে।
প্রায় প্রতিদিনই যুদ্ধে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন মাত্রা। বিশ্ববাসীকে স্তম্ভিত করে দিয়ে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়ে যায় এই যুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের বৃহত্তম বিমান হামলা হয় ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায়। ফলে যুদ্ধ ক্রমেই জটিল ও ভয়ংকর রূপ ধারণ করে।এই হামলার বদলা নিতে ইরানও কাতার ও ইরাকে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে পরাশক্তিগুলো এই যুদ্ধে জড়িয়ে যেতে পারে। চরম ধ্বংসের পথে এগিয়ে যেতে পারে বিশ্ব।
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাব আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আঘাত করছে।
প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকস জানায়, গত এক সপ্তাহে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১০ শতাংশ বেড়েছে। এক মাসে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ২২ শতাংশের বেশি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য পণ্যেও পড়বে। পরিবহন খরচ বেড়ে গেলে প্রতিটি পণ্যেরই দাম বাড়বে।বিশ্বমন্দাকে উসকে দেবে। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসবে।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, ইরাক ও কাতারের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে ইরান। কাতার ও ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে ‘বিশারাত ফাতেহ’ এবং ‘ইয়া আবা আব্দুল্লাহ’ কোড নামে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়েছে। হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জবাবে ইরান বলেছে, এই হামলা ভ্রাতৃপ্রতিম কাতারের বিরুদ্ধে নয়। এই হামলা ইরানে হামলাকারী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। তার পরও আঞ্চলিক সংঘাত তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। অন্যদিকে সিরিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি কাসরাককে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। ইরান সরকার বা ইরানপন্থী গোষ্ঠীর হামলার আশঙ্কায় এই সতর্কতা বলে জানিয়েছে সিরিয়ার একটি নিরাপত্তা সূত্র।
হামলার প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত ও বাহরাইন তাদের আকাশসীমা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে। ঢাকা-দোহা ফ্লাইটও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বেশির ভাগ বিমান সংস্থাই মধ্যপ্রাচ্যের ব্যস্ততম রুটটি বর্জন করছে। এতে বিমান পরিবহনের খরচও অনেক বেড়ে যাচ্ছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হওয়া হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের পার্লামেন্ট অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করার আগেই অনেক তেলবাহী ট্যাংকার এই পথ ব্যবহার করা বন্ধ করে দিয়েছে। এটিও বিশ্বে তেলের মূল্য অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। বাংলাদেশও তার বড় ভুক্তভোগী হতে পারে।
আমরা আশা করি, যুক্তরাষ্ট্রসহ পরাশক্তিগুলো সুবিবেচনার পরিচয় দেবে। কেউই যুদ্ধের আগুন আর উসকে দেবে না। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ দ্রুত বন্ধ হোক—এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়