নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লার মুরাদনগরে নারী ধর্ষণ, লালমনিরহাটে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে নরসুন্দর পিতা-পুত্রকে আটক এবং ঢাকার খিলক্ষেতে দুর্গাপ্রতিমা অসম্মানের প্রতিবাদে যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে প্রায় ঘন্টাব্যপী এই মানববন্ধন চলে। মানববন্ধনে বিভিন্ন এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন। যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন পূজা উদযাপন পরিষদের সহ সভাপতি দুলাল সমাদ্দার, সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রতন আচার্য, সদর উপজেলার সভাপতি রবিন কুমার পাল, বাঘারপাড়া উপজেলার সদস্য সচিব প্রণয় সরকার, যশোর পৌরসভার সাধারণ সম্পাদক উৎপল সরকার, শার্শা উপজেলার সভাপতি নীল কুমার সিংহ, ঝিকরগাছার সভাপতি দুলাল অধিকারী, মহিলা পরিষদের নেত্রী সুলতানা রহমান জলি প্রমুখ। মানববন্ধনে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের
সভাপতির বক্তব্যে সভাপতি দিপংকর দাস রতন বলেন, বাংলাদেশে যত বড় সাম্প্রদায়িক শক্তি আসুক না কেন, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্পর্ক নষ্ট করা যাবে না। ধর্মীয় মোড়কে একটি গোষ্ঠী পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা গঠন করার পায়তারা করছে, কিন্তু বাংলাদেশে এটা সম্ভব না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কে হিন্দু আর কে মুসলমান, তা দেখার বিষয় নয়, বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে। বাঙালি জাতি অসাম্প্রদায়িক এবং এই জাতিকে কোনো সাম্প্রদায়িক হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। বাঙালি যতদিন আছে, ততদিন বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক থাকবে। খিলক্ষেতে মন্দির ভাঙার আগে সরকারের উচিত ছিল নোটিশ প্রদান করা। কুমিল্লার মুরাদনগরের ঘটনায় স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ধর্ষকের বিচারের জোর দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পূজা উদযাপন পরিষদ সার্বক্ষণিক রাজপথে থাকবে।

