তারিক হাসান বিপুল
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক সেজে প্রতারণার অভিযোগে আব্দুর রহমান রাকিব (২৭) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরে হাসপাতালের ভেতরেই তাকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। রাকিবের বাড়ি যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায়। তিনি নিজেকে বরিশাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির মেডিকেল টেকনোলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দিয়ে হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘ইন্টার্ন চিকিৎসক’ পরিচয়ে ঘোরাফেরা করছিলেন। তবে বাস্তবে তার কোনো চিকিৎসা শিক্ষাগত সনদ বা অনুমোদন নেই। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাকিব কিছুদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসক সেজে চলাফেরা করছিলেন। সোমবার তিনি এক রোগীর স্বজনের সঙ্গে চিকিৎসাসেবার নামে কথা বলছিলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে তার কথাবার্তায় গরমিল ধরা পড়ে এবং স্বীকার করেন যে তিনি প্রকৃত ডাক্তার নন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ হুসাইন সাফায়াত বলেন,“ছেলেটি নিজেকে ইন্টার্ন ডাক্তার বলে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন রোগীর স্বজনের কাছ থেকে টাকা আদায় করছিল। এমনকি পুরাতন কসবা এলাকার এক নারীর কাছ থেকেও প্রতারণা করেছে। আমরা তাকে আইনের আওতায় এনেছি। ঘটনার পরপরই কোতোয়ালি থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে রাকিবকে হেফাজতে নেয়। কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসনাত বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই যশোর জেনারেল হাসপাতালে মূল্যবান ওষুধ চুরির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। এখনও সেই তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। এরমধ্যেই ভুয়া ডাক্তার আটক হওয়া প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নজরদারির ঘাটতির বিষয়টিকে আরও জোরালোভাবে সামনে এনেছে। পরপর এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলছেন, এটা শুধু একজন প্রতারকের ঘটনা নয়, বরং গোটা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনার বহিঃপ্রকাশ। যে প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসে, সেখানে নিরাপত্তা ও পেশাগত মান বজায় না থাকলে সাধারণ মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়বে।”
