নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বারান্দায় পড়ে কাতরাচ্ছিলেন এক প্রসূতি নারী। শনিবার বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। উপস্থিত ছিলেন ডিউটির ডাক্তার ও নার্সসহ ৭-৮ জন কর্মচারী, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেননি। প্রসূতির নাম বৃস্টি খাতুন (২৬)। তিনি যশোর রেলস্টেশন কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা। হাসপাতালে ওঠার সময় বারান্দায় পড়ে গেলে কেউ তাকে ধরেনি। তখন জরুরি বিভাগে ডিউটি করছিলেন ডা. বিচিত্র মল্লিক। তাকে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু করতে পারবো না। দায়িত্বশীল নাগরিক হলে নিজেই রোগী নিয়ে আসতেন।’ পরে এক পথচারী নারী আনজু, যিনি ফল বিক্রি করছিলেন, নিজে উদ্যোগ নিয়ে বৃস্টিকে লেবার ওয়ার্ডে নিয়ে যান। ভর্তি কাগজপত্র না থাকায় তাৎক্ষণিক ভর্তি হয়নি। পরে স্বেচ্ছাসেবক শিলারানী জরুরি বিভাগ থেকে কাগজ এনে ভর্তি সম্পন্ন করেন। বিকেল ৫টা ১৬ মিনিটে ভর্তি করার পর ৫টা ৩৩ মিনিটে বৃস্টি খাতুন একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন। বর্তমানে মা ও সন্তান দু’জনই সুস্থ আছেন। এই ঘটনার পর হাসপাতালে থাকা সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এরা কি শুধু মাস শেষে বেতন নিতেই হাসপাতালে আসেন? গরিব রোগীদের প্রতি কোন দায়িত্ব নেই? নার্স তারকনাথ ওই চিকিৎসকের পক্ষে অবস্থান নেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

