২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তন

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়। অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও মানুষের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রক্ষমতা, সরকার, জনপ্রতিনিধিত্ব, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনে বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তনের দাবি ওঠে। অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেশ কিছু কমিশন গঠন করে। পাশাপাশি মৌলিক সংস্কারগুলোর পক্ষে একটি জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
এই কমিশন দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে যাচ্ছে। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, কিছু বিষয়ে ঐকমত্য না হলেও আলোচনা চলছে। কিছু বিষয়ে প্রবল মতানৈক্যও রয়েছে। গতকাল সোমবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক থেকে বিএনপির ওয়াক আউটের ঘটনাও ঘটেছে।
গত রবিবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের ১৯তম বৈঠকে এক ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকতে পারবেন—এমন প্রস্তাবে একমত হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। একই সঙ্গে তারা স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনেও একমত হয়েছে বলে জানান কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। বৈঠকের শুরুতে তিনি বলেন, ‘কমিশন এরই মধ্যে একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে এবং এটি বিবেচনার জন্য আগামীকালের (সোমবার) মধ্যে সব রাজনৈতিক দলের কাছে একটি করে খসড়া প্রেরণ করা হবে। সেটি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে মতামত জানালে এতে সন্নিবেশ করা হবে।
সবার মতামত সন্নিবেশ করে চূড়ান্ত জুলাই সনদের পটভূমি, প্রাথমিক বক্তব্যগুলো, অঙ্গীকার এবং প্রক্রিয়ার বিষয়বস্তুগুলো অন্তর্ভুক্ত করে তা রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে তুলে ধরা হবে।’ এ সময় তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে বড় ধরনের কোনো মৌলিক আপত্তির বিষয় উত্থাপিত না হলে সেটি নিয়ে বৈঠকে আর আলোচনা করা হবে না। সময়ের স্বল্পতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের আলোচনা যেকোনোভাবে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। আলোচনা শেষ করার মাধ্যমে পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হতে চাই। ১০টি বিষয়ে আমরা এক ধরনের ঐকমত্যে পৌঁছেছি (রবিবারের বৈঠকের আগে), কিছু ক্ষেত্রে নোট অব ডিসেন্ট আছে এবং সাতটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু তা অসমাপ্ত রয়েছে এবং তিনটি বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি।
সংবিধানে রাষ্ট্রের যেসব মূলনীতি রয়েছে, সেগুলোর সংস্কার বা পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতির মধ্যে দুটির সংশোধনীতে দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। বামপন্থী দলগুলো বিদ্যমান ‘জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা’ বহাল রেখেই কমিশনের প্রস্তাবিত ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি’ যুক্ত করার পক্ষে অবস্থান নেয়। বিএনপি, জামায়াতসহ ডানপন্থী দলগুলো কমিশনের প্রস্তাবের সঙ্গে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া ‘আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস’ রাখার কথা বলে। এনসিপিসহ কয়েকটি দল আগের মূলনীতি বাতিল করে কমিশনের প্রস্তাব যুক্ত করার দাবি জানায়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তনে বিএনপি অত্যন্ত সচেতনভাবে এগোচ্ছে।
আমরা মনে করি, সব স্বার্থের ওপরে রাষ্ট্রের স্বার্থ। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি রাষ্ট্রের সব নাগরিকের মৌলিক অধিকারগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাই সংস্কারের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে অত্যন্ত সুচিন্তিত।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়