প্রতিদিনের ডেস্ক
পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের অন্যতম ধনী নায়িকা তিনি। পারিশ্রমিকের দিক থেকেও বহু তারকাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন খুব কম সময়ের মধ্যেই। কিন্তু ক্যারিয়ারের শীর্ষেই একটা বড় ভুল করেন তিনি আর এক ভুলেই ক্যারিয়ার শেষ হয় নায়িকার।বলিউডের গল্প নিয়ে সর্বদাই সরগরম টিনসেল টাউন।
তেমনই বলিউডের এমন এমন কেচ্ছা রয়েছে যা নিয়ে আজও আলোচনা চলে। তিনি হলেন সেই অভিনেত্রী যিনি ১২০-টির বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন।বলিউডে ২০ বছর একটানা রাজত্ব করেছেন এবং ৪০ বছর কাজ করছেন। তিনি হলেন একসময়কার ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ ধনী অভিনেত্রী মালা সিনহা।
তাঁর জীবনকাহিনি শুনলে রাতের ঘুম উড়ে যাবে।অভিনেত্রী মালা সিনহা গুরু দত্ত, অশোক কুমার, দিলীপ কুমার, রাজকুমার, মনোজ কুমার, রাজেশ খান্না থেকে অমিতাভ বচ্চনের মতো বড় শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং অনেক সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছেন।শোনা যায় যে একজন শীর্ষ অভিনেত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত কৃপণ। লাখ লাখ কোটি টাকা আয় করা নায়িকা নিজেই সমস্ত ঘরের কাজ করতেন।
অর্থ অপচয় এড়াতে কাজের লোকও রাখতেন না।ষাটের দশকের সুপারহিট অভিনেত্রীর উত্থানটা ছিল উল্কাগতির মতো। কিন্তু একটা ভুলেই শেষ হয়ে যায় তাঁর ক্যারিয়ার। সুপারহিট ছবির নায়িকার কেলেঙ্কারি ফাঁস হতেই শিউরে ওঠে সমস্ত ভক্তরা।মালা সিনহার ক্যারিয়ার তখন মধ্যগগণে।
১৯৭৮ সালে। আচমকা একদিন আয়কর দপ্তরের কর্মকর্তারা মালা সিনহার বাড়িতে হানা দেন। অভিযান চালানোর পর চক্ষু চড়কগাছ হয় কর্মকর্তাদের। অভিনেত্রীর বাথরুমের দেওয়াল থেকে ১২ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। যা শোরগোল ফেলে দেয় ইন্ডাস্ট্রিতে৷এই ঘটনার রেশ পৌঁছেছিল আদালত পর্যন্ত। খবর জানাজানি হতেই শুরু হয় অভিনেত্রীকে নিয়ে তুমুল আলোচনা। জানা যায়, আদালতে দাঁড়িয়ে মালা সিনহা বলেছিলেন এই টাকা তিনি দেহব্যবসা করে জমিয়েছেন। অভিনেত্রীর এই একটা কথাই তাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।
শোনা যায়, মালা সিনহাকে তার বাবা ও আইনজীবী পতিতাবৃত্তি করার মিথ্যা বলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। মালা সিনহাও নাকি তার বাবা ও আইনজীবীর পরামর্শ মেনে চলেন।আদালতে এহেন জবানবন্দির পর মালার ক্যারিয়ার মুখ থুবড়ে পড়ে। একাধিক বড় প্রজেক্ট থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ে যায় রাতারাতি। প্রযোজক-পরিচালক থেকে অভিনেতা, টেকনিশিয়ান… কেউই আর তাঁর সঙ্গে কাজ করতে রাজি হন না! একসময় মালা সিনহা বাধ্য হন অভিনয় জগৎ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে।
মালা আদালতে জানিয়েছেন যে তিনি এই টাকা পতিতাবৃত্তির মাধ্যমে অর্জন করেছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে তার ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রের সংখ্যা কমে যায়। বছরে ৫-৬টি ছবি করতেন এই অভিনেত্রী।
