প্রতিদিনের ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে আমদানীকৃত সেমিকন্ডাক্টরের ওপর প্রায় ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।যুক্তরাষ্ট্রে আমদানীকৃত সেমিকন্ডাক্টরের ওপর প্রায় ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যেসব কোম্পানি এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করছে অথবা ভবিষ্যতে তৈরির পরিকল্পনা বা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা এ শতভাগ শুল্কের আওতায় থাকবে না। খবর রয়টার্স।প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে চিপ উৎপাদন কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই ট্রাম্প এ পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
এদিকে ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর গত বুধবার অ্যাপল জানায়, কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত আরো ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগে এ বিশাল বিনিয়োগ বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সমর্থনকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন অনেকে। পাশাপাশি অ্যাপলের মতো যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা গড়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া কোম্পানি থেকে কোনো শুল্ক নেয়া হবে না বলে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ট্রাম্প।তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘কেউ যেন যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে তা থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা না করে। তাহলে আমরা হিসাব করে আগের সব শুল্ক যোগ করব এবং পরে সে অর্থ পরিশোধ করতেই হবে, এটা নিশ্চিত।’যদিও ট্রাম্পের মন্তব্যটি কোনো আনুষ্ঠানিক শুল্ক ঘোষণা ছিল না বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পনা মাত্র।
বিশ্লেষকদের মতে, সেমিকন্ডাক্টরসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিপণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট একটি কার্যক্রমের অংশ। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি তদন্ত প্রকাশ পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে পদক্ষেপটি বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা তাদের।এদিকে ট্রাম্পের মন্তব্যের পরই বিভিন্ন দেশ ও ব্যবসায়িক সংগঠনের মধ্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ বাণিজ্যদূত বৃহস্পতিবার জানান, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্স ট্রাম্প ঘোষিত ১০০ শতাংশ শুল্কের আওতায় পড়বে না। এছাড়া ওয়াশিংটন ও সিউলের মধ্যে বিদ্যমান একটি বাণিজ্য চুক্তির আওতায় সেমিকন্ডাক্টর পণ্যে দক্ষিণ কোরিয়া সবচেয়ে অনুকূল (সর্বনিম্ন) শুল্ক সুবিধা পাবে।যদিও স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে কিছু দেশ ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।ফিলিপাইনের সেমিকন্ডাক্টর শিল্প সংগঠনের সভাপতি ড্যান লাচিকা বলেন, ‘এ পরিকল্পনা তার দেশের জন্য ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত হবে।’
মালয়েশিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী টেংকু জাফরুল আজিজ সতর্ক করে বলেন, ‘যদি শুল্ক আরোপের কারণে মালয়েশিয়ার পণ্যগুলোর প্রতিযোগী সক্ষমতা কমে যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় বাজার হারানোর ঝুঁকিতে থাকবে দেশটি।’
