নিজস্ব প্রতিবেদক॥
যশোর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ী মফিজুর রহমান দপ্তরীর স্ত্রী লাবণ্য রহমান অভিযোগ করেন, শিল্প ও বন্দরনগরী নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ী মেসার্স জাফ্রিদী এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ শাহনেওয়াজ কবির টিপুর ষড়যন্ত্রে তার পরিবার পথে বসেছে। তিনি বলেন, দেশের শীর্ষ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নাবিল গ্রুপের গম বিক্রির এজেন্ট শাহনেওয়াজ কবির টিপু আন্ডার রেটে গম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নওয়াপাড়ার অসংখ্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। তার স্বামী ২০১২ সাল থেকে সুনামের সঙ্গে কয়লা, সার, ভুট্টা ও গমের ব্যবসা করে আসছেন। জনি এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে টিপুকে নগদ চার কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়, যার মধ্যে এক কোটি টাকা তার স্বামী মফিজুর রহমান দপ্তরীর প্রতিষ্ঠান মেসার্স মফিজ ট্রেডিং বিনিয়োগ করে। অভিযোগে বলা হয়, ব্যবসায়িক চুক্তি অনুযায়ী গম সরবরাহ না করায় জনি এন্টারপ্রাইজ টাকা ফেরতের চাপ দিলে টিপু গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর ইউসিবি ব্যাংকের মাধ্যমে দুই কোটি টাকা ফেরত দেন। পরবর্তীতে তার স্বামী সেই টাকা ব্যবসায়িক অংশীদার ও ঋণদাতাদের ফেরত দেন। তবে অবশিষ্ট দুই কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা বকেয়া থাকায় চাপ দিলে টিপু নিজের স্ত্রীকে দিয়ে মিথ্যা অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা সাজান। মিসেস লাবণ্য রহমান দাবি করেন,ঘটনা সাজানো সময়ের পরও জনি এন্টারপ্রাইজ ও জাফ্রিদী এন্টারপ্রাইজের মধ্যে কয়েক কোটি টাকার ব্যবসায়িক লেনদেন হয়েছে, যা মামলার অভিযোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তিনি জানান, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রতারণার শিকার ব্যবসায়ীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক এবং তার স্বামীর সুনাম ফিরিয়ে দেওয়া হোক। তবে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলের অভিযোগ, এই সংবাদ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল জনি ও মফিজুর রহমানের পুরনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ড আড়াল করা। স্থানীয়দের ভাষায়, দু’জনেরই নামে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও গুমের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণেই এতদিন অনেক অভিযোগ ধামাচাপা পড়ে গেছে। এলাকার অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা বলছেন, নওয়াপাড়া মোকামে বড় অঙ্কের লেনদেনে একাধিক সিন্ডিকেট সক্রিয়। প্রতারণা, আন্ডার রেট পণ্য সরবরাহ ও পাওনা টাকা আটকে রাখা এসব সিন্ডিকেটের পুরনো কৌশল। এবার সেই বিরোধই আদালত ও গণমাধ্যমে গড়িয়েছে—যেখানে একপক্ষ নিজেদের নির্দোষ দেখাতে অপর পক্ষকে ‘প্রতারক’ আখ্যা দিচ্ছে, আর অন্যপক্ষ তাদের অতীত অপরাধ তুলে ধরছে। মেসার্স জাফ্রিদী এন্টারপ্রাইজের মালিক শাহনেওয়াজ কবির টিপুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে—এটি কি কেবল ব্যবসায়িক বিরোধ, নাকি প্রভাবশালী চক্রের আধিপত্য বিস্তারের লড়াই?
