উ. কোরিয়ার সীমান্তে লাউডস্পিকার সরাইনি : সরানোর ইচ্ছাও নেই

প্রতিদিনের ডেস্ক
দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্ত বরাবর উত্তর কোরিয়ার প্রোপাগান্ডা প্রচারের লাউড স্পিকার সরানোর দাবি খারিজ করে দিয়েছেন কিম জো ইয়ো জং। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম জো ইয়ো জং। তিনি ক্ষমতাসীন দলের প্রচার দপ্তরের উপপরিচালক। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো লাউডস্পিকার সরাইনি এবং তা সরানোর কোনো ইচ্ছাও আমাদের নেই।’ তিনি আরো জানান, ‘আমরা বহুবার পরিষ্কার করে দিয়েছি, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই। ভবিষ্যতে এই অবস্থান আমাদের সংবিধানেও সংযোজিত হবে।’ এর আগে এই সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল, সীমান্তে উত্তর কোরিয়া কিছু লাউডস্পিকার সরিয়েছে—দক্ষিণ কোরিয়ার তরফে একই রকম পদক্ষেপের কয়েকদিন পর। তবে কিম জো ইয়ো জং এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘এটি ভিত্তিহীন ও একতরফা অনুমান, একটি বিভ্রান্তিকর চক্রান্তমাত্র।’ দুই কোরিয়ার মধ্যে সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে প্রচারযুদ্ধ। দক্ষিণ কোরিয়া তাদের লাউডস্পিকারে প্রচার চালানোর পাশাপাশি পপ সংগীত বাজিয়ে থাকে, অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া বাজায় ভয়াবহ শব্দ, যেমন জন্তুর ডাক। সীমান্তবর্তী গ্রামবাসীরা মাঝরাতে প্রচারচালিত শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে বহুবার অভিযোগ করেছেন। উত্তর কোরিয়া অতীতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচার সম্প্রচারকে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে বিবেচনা করেছে এবং স্পিকার গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া তাদের ফাঁকা প্রচার সম্প্রচার জুন ২০২৪-এ পুনরায় শুরু করে, ছয় বছরের বিরতির পর। সদ্য অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন এই কড়া অবস্থান নেন উত্তরের প্রতি। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে তখন দক্ষিণে পাঠানো হয় বর্জ্যভর্তি বেলুন, যার জবাবে আবার চালু হয় দক্ষিণের প্রচার সম্প্রচার। তবে নতুন প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়াং, যিনি কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় আসেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরই সীমান্তে স্পিকার বন্ধ করে দেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী জানায়, এটি ছিল আস্থা ফিরিয়ে আনতে ও শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি প্রচেষ্টা। তবুও, দুই কোরিয়ার সম্পর্ক এখনও উত্তেজনাপূর্ণ। এই সপ্তাহেই উত্তর কোরিয়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া শুরুর আগে তারা দৃঢ় প্রতিক্রিয়া জানাবে। অতএব, সীমান্তে শান্তির বার্তা যতই আসুক, বাস্তবতা বলছে—উত্তেজনা এখনো অনেকটাই জীবন্ত। সূত্র : বিবিসি

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়