দেশজুড়েই এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। এই কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধী তৎপরতার খবর প্রতিনিয়ত আসছে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিষয়টি আর রাজধানী কিংবা বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে আটকে নেই, সারা দেশেই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে কিশোর অপরাধের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, কুমিল্লাসহ প্রায় সব বড় শহরেই কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। কোথাও তারা স্থানীয় ‘বড় ভাই’ বা রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় সংগঠিত, কোথাও আবার প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে দাপট দেখাচ্ছে। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, সব ক্ষেত্রেই কিশোরদের অংশগ্রহণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। কিশোর অপরাধীরা এখন এক মূর্তিমান আতঙ্ক। তাদের দৌরাত্ম্য কেবল ছিনতাই, চাঁদাবাজি বা মারামারির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, মাদক ব্যবসা, খুনাখুনি এবং প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে তারা পুরো সমাজকে এক ভীতিকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই কিশোর গ্যাংয়ের লাগাম টেনে ধরতে না পারলে তা অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামাজিক সংকটের জন্ম দেবে।বড় ভাই এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। রাজশাহীতে ‘আওয়ামী লীগ আমলে’ এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ‘ব্যানারে’ কিশোর অপরাধীচক্রের সক্রিয় থাকার তথ্য উঠে এসেছে। একইভাবে চট্টগ্রামে বড় ভাই পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। এই অপরাধপ্রবণতা আইন-শৃঙ্খলা সমস্যার পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয়েরও প্রতিফলন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতির সঙ্গে তাদের তৎপরতাও বাড়ছে। নানা রকম অপরাধীচক্র তাদের ব্যবহারও করছে। সম্প্রতি রাজধানীর জেনেভা ক্যাম্পে ১১ গডফাদারের নিয়ন্ত্রণে মাদক ব্যবসা ও সহিংসতার যে চিত্র উঠে এসেছে, তার সঙ্গে জড়িত রয়েছে কিশোর অপরাধীরাও। প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীরা কিশোরদের সহজেই প্রলুব্ধ করে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সহিংসতায় যুক্ত করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা-পরবর্তী সময়ে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে অনলাইন আসক্তি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। দীর্ঘ সময় স্মার্টফোনে গেমস, টিকটক বা রিলসে ডুবে থাকা তাদের বাস্তব জগৎ থেকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। খেলার মাঠের অভাব, পারিবারিক সময়ের ঘাটতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুপযুক্ত পরিবেশ তাদের অপরাধপ্রবণতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।অপরাধবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে কিশোর অপরাধ দমনে শুধু পুলিশি অভিযান যথেষ্ট নয়। একদিকে আইনের প্রয়োগ, অন্যদিকে সামাজিক ও পারিবারিক প্রতিরোধ, দুই দিক থেকেই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে আড্ডা বন্ধ, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে কিশোরদের যুক্ত করার মতো উদ্যোগ নিতে হবে। কিশোর গ্যাং একটি জাতীয় সংকটের রূপ নিয়েছে। এখনই সমন্বিত নীতি, কঠোর আইন প্রয়োগ ও সামাজিক পুনর্বাসন কর্মসূচি চালু না করলে এই কিশোর অপরাধীরা আগামী দিনে আরো বড় অপরাধ নেটওয়ার্কে জড়িয়ে যাবে। রাষ্ট্র ও সমাজ দুই পক্ষেরই দায়িত্ব এখন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
সামাজিক সংকটের শঙ্কা
Previous article
Next article
আরো দেখুন
যে কারণে বিয়ের আগে রাতে টানা ২৫ দিন শুধু লাউ খান আরতি সিং
প্রতিদিনের ডেস্ক:
‘জিরো সাইজ’ মডেলদের ছাঁটাইয়ের খবর নাকচ করলেন অ্যান হ্যাথাওয়ে হ্যালোইন পার্টি শেষে ব্রিটিশ মডেলকে নির্মমভাবে হত্যা বলিউড অভিনেতা গোবিন্দর ভাগ্নি বিগবস ১৩-খ্যাত অভিনেত্রী...
জম্মু ও কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অংশ দেখিয়ে ক্ষমা চাইল নেপাল এয়ারলাইন্স
প্রতিদিনের ডেস্ক:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি নেটওয়ার্ক ম্যাপ ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে ক্ষমা চেয়েছে নেপাল এয়ারলাইন্স। ওই ম্যাপে জম্মু ও কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো...

