নিজস্ব প্রতিবেদক
সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল শাসক-শোষকগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র-চক্রান্তে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সর্বজনীন ও গণমুখী বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিতে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-দালাল পুঁজিবিরোধী ছাত্ররাজনীতির ধারাকে অগ্রসর করুন। ২৩ আগস্ট শনিবার জাতীয় ছাত্রদলের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে যশোর ও খুলনা জেলা কমিটির যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নওয়াপাড়া কার্যালয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি দিলিপ বিশ্বাস। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মধুমঙ্গল বিশ্বাস। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যাপক তাপস বিশ্বাস। আরও বক্তব্য রাখেন, খুলনা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা: কে. পি. সরকার, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট যশোর জেলা সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাস, জাতীয় ছাত্রদলের যশোর জেলা আহ্বায়ক বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, সদস্য আতিকুর রহমান জিহাদ, খুলনা জেলা কমিটির সদস্য শিউলি আক্তার, অভয়নগর থানা যুগ্ম-আবায়ক সাইফুল ইসলাম ইমন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ অভয়নগর থানা সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুসাইন প্রমুখ। আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন যশোর জেলা যুগ্ম-আহবায়ক নাইস হাসান কাশেম। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে উপমহাদেশের ছাত্রসমাজ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশমাতৃকার প্রয়োজনে মা, মাটির স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় গৌরবোজ্জ্বল আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে। ব্রিটিশ আমল থেকে অদ্যাবধি বিদেশী সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আমাদের দেশের উপর আধিপত্য, নিয়ন্ত্রণ চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে যতগুলো সরকার ক্ষমতাসীন হয়েছে সবগুলো সরকার সাম্রাজ্যবাদের তাঁবেদারী করে তাদের স্বার্থ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। অন্যদিকে দেশের শ্রমিক-কৃষক-জন-গণের উপর শোষণ-নিপীড়ন দিন দিন তীব্র হয়েছে। শিক্ষা মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত হলেও এটিকে বাণিজ্যিকীকরণ করায় শ্রমিক-কৃষক-জনগণের সন্তানরা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারপরও অনেক কষ্ট করে যারা পড়াশোনা করে শিক্ষা শেষে তাদের চাকুরির নিশ্চয়তা নেই। প্রতিবছরই শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামাজিক এই বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে বার বারই ছাত্রসমাজ আন্দোলন করেছে, কিন্তু যে আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী তা পরিবর্তন করা যায় নি। বরং ছাত্রসমাজের এই আন্দোলনকে ব্যবহার করে প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ক্ষমতার হাতবদল ঘটেছে। সাম্রাজ্যবাদের দালাল স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাত করে সাম্রাজ্যবাদের আরেক দালাল ড. ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতাসীন হয়েছে। এই সরকার একদিকে সংস্কারের নামে এদেশ থেকে সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়া ও নয়া-ঔপনিবেশিক আধা-সামন্তবাদী ভারতের সকল ধরণের প্রভাব ও জন্মদাগ মুছে দিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ ও পরিকল্পনা কার্যকর করতে দেশের জনগণকে সংস্কার, বিচার ও জাতীয় ঐক্য ইস্যুতে ব্যস্ত রাখছে, অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশী কোম্পানির কাছে ইজারা দেয়া ও করিডর প্রদানের নামে দেশকে সামাজ্যবাদী যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করা হচ্ছে। দেশের সচেতন জনগোষ্ঠী হিসেবে ছাত্রসমাজকে যখন এই তৎপরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো প্রয়োজন, তখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নির্বাচনের আমেজ তুলে দিয়ে ছাত্রসমাজকে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন থেকে দূরে রাখার কৌশল গ্রহণ করেছে। একই সাথে ক্যাম্পাসগুলিতে সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্র-জাতীয়তাবাদের রাজনীতির আওয়াজ তুলে দিয়ে ছাত্রদেরকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের বিরুদ্ধে অপতৎপরতা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার ষড়যন্ত্র করছে। অত্যন্ত সুকৌশলে ক্যাম্পাসগুলিতে বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। প্রতিক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো একদিকে বিরাজনীতিকরণের পক্ষে সাফাই গাইছে, অন্যদিকে পরিচয় আড়াল করে প্রতিটা ক্যাম্পাসে তাদের নিজেদের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। আজ জরুরি হয়ে উঠেছে প্রগতিশীল ও সচেতন ছাত্রসমাজকে এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন থেকে সাম্রাজ্যবাদের অন্যায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী নিপীড়িত জাতি জনগণের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমাদের দেশেও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন অগ্রসর করা। তাই আসুন, জাতীয় ছাত্রদলের পতাকাতলে সংগঠিত হয়ে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-দালালপুঁজি বিরোধী আন্দোলন অগ্রসর করি এবং একটি জাতীয় গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করি।

