মাজাহারুল ইসলাম মিথুন, পাইকগাছা
অতিবৃষ্টি, নদীভাঙন, লবণাক্ত ও জলাবদ্ধতায় নাকাল খুলনা উপকূলের কৃষক-কৃষানীরা। সর্বশেষ টানা বর্ষণে শুধু খুলনায়ই ফসল, সবজি ও আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৩ সহস্রাধিক কৃষক। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভাসমান ধানের বীজতলা তৈরি করে সফলতা পেয়েছে খুলনার এক কৃষক পরিবার। এবার চলতি চলতি বর্ষা মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে কয়েক দফা বীজতলা নষ্ট হওয়ায় এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন পাইকগাছা উপজেলার রামনাথপুর গ্রামের কৃষানী রোকেয়া পারভীন। দেবর আব্দুল কুদ্দুসকে নিয়ে ফেলে দেওয়া কলাগাছ, বাঁশ ও মাটি ব্যবহার করে ভেলা বানিয়ে তৈরি করেছেন বীজতলা। পরিক্ষামুলক বীজতলা সফল হওয়ায় এখন দুর্যোগকবলিত কৃষকদের আশার আলো দেখাচ্ছে।
কৃষক রোকেয়া পারভীন বলেন,অতি বৃষ্টির কারনে কয়েক দফায় প্রায় ৭৫ কেজি বীজ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। আমন চাষ প্রায় অনিশ্চিত হয়। এসময় অ্যাওসেডের কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে কলাগাছের ভেলা বানিয়ে পুকুরের কাদামাটি তুলে ব্রি-৭৫ আমন ধানের বীজ ফেলছি। একটি বীজও নষ্ট হয়নি। বরং মাত্র ১৫ দিনে চারা রোপণের উপযোগী হয়েছে। রোকেয়ার দেবর আব্দুল কুদ্দুস বলেন, প্রথমে আমাদের কাজ দেখে সবাই পাগল বলত। বলত কলাগাছের ভেলায় ধানের বীজতলা হলে তো কারো জমির দরকার ছিল না। কিন্তু এখন সবাই অবাক। এখানে কোনো সার-কীটনাশকও লাগেনি। জমিতেও এমন ধানের চারা আর কখনো হয়নি। শুধু আমরা না, গ্রামের সবাই খুশি। সলুয়া গ্রামের কৃষক কবির মোড়ল বলেন, ভেলার বীজতলায় মাত্র ১৪ দিনে ছয়-সাত ইঞ্চি ধানের চারা! বিশ্বাসই হচ্ছেনা। অথচ আমার জমির বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষক আবদুল্লাহ মোড়ল জানান, চলতি আমন মৌসুম বৃষ্টির কারণে এক মাস দেরি হয়েছে। সামনে আর সমস্যা হবে না। কলার ভেলা বা প্লাস্টিকের ড্রামের মাধ্যমে মাচা তৈরি করে ধানের বীজতলা করা যাবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অটোক্রোপ কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, কলাগাছের ভেলায় ধানের বীজতলা কৃষকদের স্বপ্ন দেখাবে। ভাসমান ভেলায় ধানের বীজতলা তৈরিতে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেছেন অ্যাওসেডের কমিউনিটি মোবালাইজার শুভঙ্কর বিশ্বাস। তিনি বলেন, এবার পাইকগাছাসহ খুলনা অঞ্চলে আমনের বীজতলা কয়েকবার নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থা থেকেই ভাসমান বীজতলা তৈরির ভাবনা। কৃষকরা যার সফল বাস্তবায়ন করেছেন। পাইকগাছা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরামের সভাপতি অধ্যক্ষ রমেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, আমি ভাসমান বীজতলাটি দেখেছি। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আমাদের কৃষকদের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান (ভারপ্রপ্ত) মীর রিফাত জাহান উষা বলেন, এ বছর খুলনাঞ্চলে ৩ মাস টানা বৃষ্টিতে বেশিরভাগ কৃষকের বীজতলা কয়েক বার নষ্ট হয়েছে। ফলে আমন আবাদ ব্যহাত হচ্ছে। অ্যাওসেডের উদ্ভবিত ভাসমান বিজতলা কৃষকদের আশা জাগাবে। ভাসমান বীজতলা দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে নতুন বিল্পব সুচনা করবে।
