প্রতিদিনের ডেস্ক
বাংলাদেশ ১৯৮৯ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছে। এই সময়ে একটি অন্যতম বৃহৎ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি লাভ করেছে বাংলাদেশ। এই অংশগ্রহণ শুধু আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও মানবিক সহমর্মিতার প্রতিফলন নয়, বরং শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত সদস্যরা যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেন, তা বাংলাদেশের রেমিট্যান্সপ্রবাহে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।এছাড়া আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় সক্রিয় অংশগ্রহণ বাংলাদেশকে একটি শান্তিপ্রিয়, মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় হয়েছে।তবে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের একমাত্র অবশিষ্ট কনটিনজেন্টকে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের পুলিশের দীর্ঘদিনের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যাদের পুরো কনটিনজেন্ট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ক্যামেরুন, সেনেগাল ও মিশরের মতো দেশের কনটিনজেন্ট আংশিকভাবে কমানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।- জাতিসংঘের নথির তথ্যপুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জাতিসংঘের এ সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের জন্য ‘গুরুতর আঘাত’ বা ‘বড় ধাক্কা’ হিসেবে দেখছেন। শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তার চোখে উদ্ভূত পরিস্থিতি বাংলাদেশ সরকারের স্পষ্ট ‘কূটনৈতিক দুর্বলতা’।
১৮০ সদস্যের এই কনটিনজেন্টের মধ্যে ৭০ জন নারী পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। তারা আগামী নভেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আসবেন বলে জানা গেছে। মাত্র দুই মাস আগে এই কনটিনজেন্টের অংশ হিসেবে জাতিসংঘের একমাত্র সবচেয়ে বড় নারী পুলিশ ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছিল।
সরকারের সক্রিয় উদ্যোগের অভাবে আমাদের পুলিশ এখন পুরোপুরি কোণঠাসা, জাতিসংঘের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারছে না।- নারী পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য
কাছে আসা জাতিসংঘের নথিতে কঙ্গো, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র এবং দক্ষিণ সুদানের বিভিন্ন মিশনে ধাপে ধাপে সদস্য সংখ্যা কমানো ও প্রত্যাবাসনের পরিকল্পনা উল্লেখ করা রয়েছে।

