নিজস্ব প্রতিবেদক
পুকুর শ্রেণির জমিতে ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন না দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যশোরের হাজারো জমির মালিক। এ দাবিতে শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছে আবাসভূমি শ্রেণি সংশোধন আন্দোলন কমিটি, যশোর। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সদস্য আব্দুল মতিন বলেন, দুই যুগ আগে তিনি যশোর শহরের পশ্চিম বারান্দীপাড়া রাঙ্গামাটি গ্যারেজ এলাকায় রাস্তার পাশে ১০ শতক জমি ক্রয় করেন। জমিটি পূর্বে পুকুর হলেও তখন কোনো সরকারি নিষেধাজ্ঞা ছিল না। এলাকাটিতে ইতোমধ্যে অনেকেই বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। তবে ২০২২ সালে তিনি যশোর পৌরসভায় বাড়ির নকশা অনুমোদনের আবেদন করলে পৌর কর্তৃপক্ষ জমির শ্রেণি পুকুর হওয়ায় অনুমোদন দেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, পৌর কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতি নিয়ে কাজ শুরু করার পর দশতলা ভবনের বেজমেন্ট নির্মাণ সম্পন্ন হলে হঠাৎ কাজ বন্ধের নির্দেশ আসে। এরপর থেকে পুকুর শ্রেণির জমির প্লান অনুমোদন পুরোপুরি বন্ধ। এর ফলে শত শত জমির মালিকের বাড়ি নির্মাণের কাজ থমকে গেছে। গত তিন বছরে যশোর পৌর এলাকায় এমন ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা সহস্রাধিক ছাড়িয়েছে বলে জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ঋণ নিয়ে জমি কিনেছি, এখন না পারছি বাড়ি বানাতে, না পারছি বিক্রি করতে। ব্যাংকের ঋণের কিস্তি দিচ্ছি অথচ জমি পড়ে আছে অকেজো হয়ে। তারা অভিযোগ করেন, জমির শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য ভূমি অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বারবার আবেদন করলেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। জেলা প্রশাসক শ্রেণি পরিবর্তনের এখতিয়ার রাখলেও অনুমোদন দিচ্ছেন না। বক্তারা জানান, ২০১২ সালে বরিশালে একটি এনজিও পুকুর দখল রোধে হাইকোর্টে রিট করলে ২০২০ সালে রায়ে দেশের সব পৌর, জেলা ও সিটি এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুরগুলোকে “প্রাকৃতিক জলাধার” হিসেবে সংরক্ষণের নির্দেশ দেয় আদালত। ২০২২ সাল থেকে সেই রায় বাস্তবায়ন শুরু হয়, যার প্রভাবে বর্তমানে পুকুর শ্রেণির জমিতে ভবন নির্মাণ বন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মালিকরা বলেন, আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে ভবন নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা মানে আমাদের জীবনের বিনিয়োগ থেমে যাওয়া। সরকার যদি এগুলো সংরক্ষণ করতে চায়, তবে আমাদের জমি অধিগ্রহণ করুক, নইলে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিকে প্রাকৃতিক জলাধার ঘোষণার নীতি থেকে সরে আসুক। সংবাদ সম্মেলনে প্রফেসর ড. শেখ আমানুল্লাহ, মনজুর হোসেন, বিথিকা পাল, বরুন কুমার, রফিকুল ইসলাম, নাজমুল কবীর, রিপন কুমার মল্লিকসহ ক্ষতিগ্রস্ত জমি মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।
