১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

২৩০০ বছরের পুরনো ৪০ সমাধি উন্মোচিত

প্রতিদিনের ডেস্ক
খরা-কবলিত ইরাকে দেশটির বৃহত্তম জলাধারে পানির স্তর কমার ফলে ৪০টি প্রাচীন সমাধি আবিষ্কার করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। এক প্রত্নতত্ত্ব কর্মকর্তা শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলীয় দুহক প্রদেশের খানকে অঞ্চলে মসুল বাঁধ জলাধারের ধারে এই সমাধিগুলো খুঁজে পাওয়া গেছে, যা প্রায় দুই হাজার ৩০০ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই স্থানে প্রত্নতাত্ত্বিক কাজের নেতৃত্বদানকারী দুহকের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পরিচালক বেকাস ব্রেফকানি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা প্রায় ৪০টি সমাধি আবিষ্কার করেছি।’ ব্রেফকানির দল ২০২৩ সালে এলাকাটি জরিপ করেছিল, কিন্তু তখন মাত্র কয়েকটি সমাধির অংশই দেখা গিয়েছিল। তিনি বলেন, এ বছর পানির স্তর ‘সর্বনিম্ন পর্যায়ে’ নেমে যাওয়ায় তারা কাজ করতে সক্ষম হয়েছেন। গত কয়েক বছরে একই এলাকায় শতাব্দীপ্রাচীন ধ্বংসাবশেষও আবিষ্কৃত হয়েছে। কারণ ইরাক পাঁচ বছরের জন্য ধারাবাহিকভাবে খরায় ভুগছে। ব্রেফকানি বলেন, ‘খরা কৃষি, বিদ্যুৎসহ অনেক ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে। কিন্তু আমাদের জন্য, প্রত্নতত্ত্বিকদের জন্য এটি খনন কাজ করার সুযোগ দেয়।’ ব্রেফকানি জানিয়েছেন, নতুনভাবে আবিষ্কৃত সমাধিগুলো হেলেনিস্টিক বা হেলেনিস্টিক-সেলিউসিড যুগের বলে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকাটি আবার পানির নিচে চলে যাওয়ার আগেই তার দল সমাধিগুলো খনন করে দুহক জাদুঘরে পাঠানোর কাজ করছে, যাতে সেগুলো নিয়ে আরো গবেষণা ও সংরক্ষণ সম্ভব হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশেষভাবে সংবেদনশীল ইরাক এই মুহূর্তে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী পানিসংকট ও বার্ষিক খরার মুখোমুখি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, এই বছরটি ১৯৩৩ সালের পর সবচেয়ে শুষ্ক বছরগুলোর মধ্যে একটি এবং পানির মজুগ পূর্ণ সক্ষমতার মাত্র মাত্র ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। পাশাপাশি তারা অভিযোগ করেছে, প্রতিবেশী ইরান ও তুরস্কে নির্মিত উজানের বাঁধগুলো তিগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর প্রবাহ ব্যাপকভাবে কমিয়েছে, যা সহস্রাব্দ ধরে ইরাককে সেচ জোগায়।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়