খুলনা প্রতিনিধি
হিন্দু সম্প্রদায় অধ্যুষিত খুলনা-১ আসনে প্রার্থী নিয়ে দোটানায় সব দল। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে বিগত সংসদ সদস্যদের বেশিরভাগই হিন্দু সম্প্রদায়ের ছিলেন। আওয়ামী লীগের অবর্তমানে আসনটি ধরে রাখতে বিকল্প প্রার্থী খুঁজছে সব দল। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি আসনটিতে এখনও প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি। জামায়াতও আসনটিতে বিকল্প প্রার্থী খুঁজছে। এসব আলোচনার মধ্যে উঠে আসছে ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের হিন্দু শাখার সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীর নাম। জামায়াতের সভা-সমাবেশে সরব উপস্থিতি এবং বক্তৃতা দিয়ে ইতোমধ্যে সবার নজর কেড়েছেন কৃষ্ণ নন্দী। নতুন করে তাকে খুলনা-১ আসনে প্রার্থী করা হতে পারে বলে গুঞ্জন উঠেছে। কৃষ্ণ নন্দী নিজেও প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। জামায়াতও তার বিষয়ে ইতিবাচক বলে জানা গেছে। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি জামায়াত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যবসায়ী কৃষ্ণ নন্দীর গ্রামের বাড়ি ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগরে। ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থী দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এক বছর ধরে ডুমুরিয়া ও ফুলতলায় গোলাম পরওয়ারের বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে কৃষ্ণ নন্দীকে দেখা গেছে। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিটি সমাবেশেই সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষের সরব উপস্থিতি ছিল। ২০০৩ সালে জামায়াতে যোগ দেওয়া কৃষ্ণ নন্দী ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের হিন্দু শাখার সভাপতি। খুলনা-১ আসনে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা থাকলেও সেখানে আগে থেকেই বটিয়াঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির শেখ আবু ইউসুফকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত।জামায়াতের কেন্দ্রীয় এক নেতা জানান, সারাদেশে ৪/৫টি আসনে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত। ইতোমধ্যে প্রার্থী চুড়ান্তও করা হয়েছে। প্রাথমিক সেই তালিকায় কৃষ্ণ নন্দী ছিলেন না। এর মধ্যে তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। জামায়াতও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “নির্বাচনের এখনও অনেক সময় বাকি রয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে কিছু কিছু আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করা হতে পারে। খুলনা-১ আসন ও কৃষ্ণ নন্দীর প্রার্থিতার বিষয়টি আমাদেরও নজরে এসেছে। চূড়ান্তভাবে কিছু বলার সময় এখনও আসেনি।” এ ব্যাপারে কৃষ্ণ নন্দী বলেন, “জামায়াত যদি সিদ্ধান্ত দেয়-তাহলে নির্বাচন করতে আমার আপত্তি নেয়। এখন বাকি ঘোষণা দল থেকে আসতে হবে।” নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখনকার খুলনা-১ আসনটি খুলনা-৫ নামে ছিল। প্রথম এমপি হন কুবের চন্দ্র বিশ্বাস। দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পান প্রফুল্ল কুমার শীল। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জেতেন প্রফুল্ল কুমার। ১৯৯৬ সালে জয়ী হন শেখ হাসিনা। পরে তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান শেখ হারুনুর রশিদ। কিন্তু সংখ্যালঘু প্রার্থী পঞ্চানন বিশ্বাসের কাছে হেরে যান। যদিও পঞ্চানন বিশ্বাস আওয়ামী লীগের এমপি হিসেবে শপথ নেন। ২০০১ সালে আবার জয়ী হন পঞ্চানন বিশ্বাস। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী জন আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মন্ডল। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আবার এমপি হন পঞ্চানন বিশ্বাস। ২০২৪ সালে জয়ী হন ননী গোপাল মন্ডল। সব মিলিয়ে আসনটিতে সব সময় সংখ্যালঘু প্রার্থীই এমপি হয়েছেন।

