প্রতিদিনের ডেস্ক:
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) মস্কোতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।মূলত হাঙ্গেরিতে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ যাতে স্থিতিশীল থাকে সে বিষয়ে আলোচনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ বৈঠক হয়েছে।অক্টোবর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার দুটি বৃহত্তম তেল উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে রুশ জ্বালানিনির্ভর হাঙ্গেরির অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হাঙ্গেরিকে এক বছরের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেওয়ায় অরবান সেই বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হন। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল—দেশটি স্থলবেষ্টিত হওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে তেল-গ্যাস সংগ্রহ করা তাদের জন্য কঠিন।শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অরবান লেখেন, আমরা ওয়াশিংটনে গিয়েছিলাম নিষেধাজ্ঞা থেকে হাঙ্গেরির অব্যাহতি নিশ্চিত করতে এবং সেটি সম্ভব হয়েছে। এখন আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে জ্বালানি সরবরাহ যেন বিঘ্নিত না হয়।ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণ আক্রমণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশির ভাগ দেশ রুশ জ্বালানি আমদানি কমালেও হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া তাদের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়িয়েছে। ২০২৪ সালে হাঙ্গেরির মোট ক্রুড অয়েল আমদানির ৮৬ শতাংশ এসেছে রাশিয়া থেকে। এ বছর তা আরও বেড়ে ৯২ শতাংশে পৌঁছেছে।বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন অব্যাহতি রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিলে অতিরিক্ত অর্থ ঢুকতে সাহায্য করবে।মস্কোতে অরবান–পুতিন বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন সাম্প্রতিক প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে।রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বুদাপেস্টে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাননি পুতিন।

