১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

মোবারকপুর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুস সালামের দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণমিটিং

উত্তম চক্রবর্তী, রাজগঞ্জ
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ মোবারকপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎসহ নানাবিধ অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারী অভিভাবকবৃন্দ এলাকাবাসীর সুধীজনেরা ফুসে উঠেছেন। এ ঘটনায় গত শনিবার সকালে ওই প্রতিষ্ঠানে গণমিটিং এ আয়োজন করা হয়। সাবেক ইউপি সদস্য আব্বাস উদ্দিনের সভাপতিিত্বে সহ সুপার মাওলানা সোলেমান দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ মাওলানা সালামের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ জনসম্মুখে তুলে ধরেন। তিনি আরো জানান, অধ‍্যক্ষকে সাময়িক বহিস্কারের জন‍্য রেজুলেশনের মাধ‍্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অনুরোধ জানিয়েছেন। এছাড়া আলোচিত দুর্নীতিবাজ অধ‍্যক্ষ আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অর্থ আত্নসাৎ, স্বেচ্চাচারিতা, প্রতিষ্ঠান ধ্বংস কারীসহ নানাবিধ অভিযোগ উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট গত১৭ ও ২৫ নভেম্বর পর পর দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। কোন ফলাফল না পেয়ে একই অভিযোগের উপর শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানে গত শনিবার সকালে গণমিটিং এর আয়োজন করা হয়। ওই মিটিংয়ে সুধীজন, ছাত্র/ছাত্রীর অভিভাবক সহ সকল পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। এ মিটিংয়ের সময় রাজগঞ্জ বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিএনপি নেতা আব্দুস সাত্তার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শামসুর রহমান, বাবু খাঁন, শাহিনুর রহমান সহ স্থানীয় আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। অর্থ আত্নসাতের মধ‍্যে বিগত ১৫ মাসে শিক্ষকদের কাছ থেকে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫ শত ১৭ টাকা বিভিন্ন কাজের কথা বলে আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া তিনি প্রায়ই মাদ্রাসায় আসেন না। কোন কোন মাসে ২-৪ দিন আসলেও কাউকে কিছু না বলে চলে যান। ঢাকা ও যশোরে মাদ্রাসার কাজে যাওয়ার নামে তার তৈরি করা মনিরামপুরে আলিশান বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকেন। প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে অধ‍্যক্ষ। যেমন ৬ষ্ঠ, অষ্টম, নবম ও আলিম শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন করাননি, শূন্য পদের নামের তালিকা এনটি আরসিতে পাঠাননি, অনলাইন জরিপ ও অডিট করাননি, প্রতিষ্ঠানের ই-রেজিস্টার করাননি। শিক্ষকদের সাথে খারাপ আচরণ করা ও প্রতিবাদ করলে মামলা ঢুকিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। এছাড়াও মাদ্রাসার সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অতি গোপনে নিজের বাড়িতে নিয়ে রেখেছেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম এই প্রতিনিধিকে জানান, সহ সুপার সোলেমান, মোজাম্মেল হক ও আহাদ ইরা তিনজন মিলে মাদ্রাসার ব্যাংক একাউন্ট থেকে ৭ লক্ষ ৫১ হাজার ৬০০ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এর ঘটনায় আমি আদালতে মামলা দায়ের করেছি যার নম্বর ৯০৫। ২০২৫ তিনজনের বিরুদ্ধে। সেজন্য তাঁরা আমার বিরুদ্ধে লোকজন নিয়ে বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মিটিং করেছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়