মহেশপুর সংবাদদাতা
ঝিনাইদহের মহেশপুরে রাতের আঁধারে দুই কৃষকের ড্রাগন ও পটল কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় ১১ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন ওই দুই কৃষক। শুক্রবার ভোরে উপজেলার মান্দারবাড়িয়া ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামের পূর্ব মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মহেশপুর থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্ত দুই কৃষক। থানার অভিযোগ নথি সূত্রে জানা যায়, পাঁচবাড়ীয়া গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে কৃষক মিঠুন হোসেন তিন বছর আগে এক বিঘা জমিতে প্রায় তিন হাজার ড্রাগন গাছ রোপণ করেন। গত মৌসুমে ড্রাগনে ভালো ফলন ও দাম পেয়ে আশাবাদী ছিলেন তিনি। এ বছর ভালো ফলনের জন্য ড্রাগন ক্ষেত পরিচর্যা করে আসছিল। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে ড্রাগন বাগানে গিয়ে দেখেন গাছগুলো রাতে দুুর্বৃত্তরা কেটে সাবাড় করে দিয়েছে। অবস্থায় দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন কৃষক মিঠুন হোসেন। তিনি জানান, রাতের অন্ধকারে পরিকল্পিতভাবে তার সব ফলন্ত ড্রাগন গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এতে তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও বিনিয়োগ এক নিমিষে শেষ হয়ে গেছে। এদিকে একই গ্রামের মৃত আকবার আলীর ছেলে কৃষক শহিদুল ইসলামের ২৫ শতক জমির ফলন্ত পটল গাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, এতে আমার প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় মহেশপুর থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকেরা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, ‘ড্রাগন ও পটল একটি লাভজনক ফসল। এভাবে রাতের অন্ধকারে ধ্বংসের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘এ ঘটনায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

