১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

টানা দ্বিতীয় দিনেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে : ৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস

অপূর্ব মৃন্ময়
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) জেলার তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এদিন দেশের সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর আগের দিন শুক্রবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা দুই দিনের শৈত্যপ্রবাহ ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় যশোরসহ আশপাশের এলাকায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের দাপটে জনজীবন হয়ে পড়েছে দুর্বিষহ। এর প্রভাব পড়েছে শ্রমজীবী মানুষ, কৃষিকাজ ও পশু-পাখির ওপরও। উত্তরের হিমেল হাওয়া ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে মানুষের জীবনযাত্রা। দিনের কিছু সময় সূর্যের দেখা মিললেও ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে কৃষকদের কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। শীতের প্রভাব পড়েছে দৈনিক শ্রমিকদের জীবনেও। যশোর শহরের লালদীঘি পাড়ে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ শ্রমিক কাজের আশায় জড়ো হলেও এখন সেই সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। কাজ না পেয়ে অনেকেই বাড়ি ফিরছেন। বাহাদুরপুর এলাকার এক দিনমজুর বলেন, শীতে একদিন কাজ পাই, তিন দিন পাই না। এক সপ্তাহ ধরে কাজ খুব কম। প্রতিদিন ভোরে এসেও কোনো লাভ হচ্ছে না। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং কোথাও কোথাও তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে অনেক এলাকায় ঠান্ডার অনুভূতি বজায় থাকবে। এদিকে শীতের তীব্রতা বাড়ায় ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জ্বর, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। সারাদিন গরম পোশাক পরে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে মানুষজনকে। সন্ধ্যার পর শহরের বিভিন্ন এলাকা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়ছে। চিকিৎসকরা শীতজনিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে গরম কাপড় ব্যবহার, উষ্ণ খাবার গ্রহণ ও গরম পানি পান করার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রসঙ্গত, আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়