প্রতিদিনের ডেস্ক:
দুবাইয়ে সিরিজের শেষ ম্যাচে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে লজ্জার ধবলধোলাই থেকে বেঁচে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর এই জয়ের নায়ক এমন একজন ক্রিকেটার, যিনি সিরিজের আগের দুই ম্যাচেই ছিলেন একাদশের বাইরে। সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করলেন পেস অলরাউন্ডার শামার স্প্রিঙ্গার। এক ওভারে হ্যাটট্রিক করে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিলেন ক্যারিবীয়দের পক্ষে। ১৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান ছিল জয়ের খুব কাছাকাছি। ১৮ ওভার শেষে ৬ উইকেট হাতে রেখে তাদের প্রয়োজন ছিল মাত্র ২৫ রান। ক্রিজে তখন দুর্দান্ত ছন্দে থাকা রহমানউল্লাহ গুরবাজ (৭১*) এবং অন্য প্রান্তে অভিজ্ঞ গুলবদিন নাইব। ম্যাচের পাল্লা পুরোপুরি আফগানিস্তানের দিকেই ঝুঁকে ছিল। কিন্তু ১৯তম ওভারে সবকিছু ওলটপালট করে দেন স্প্রিঙ্গার। ওভারের প্রথম তিন বলে তিনি ফিরিয়ে দেন গুরবাজ, রশিদ খান ও শহীদুল্লাহকে একই সঙ্গে পূর্ণ করেন নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি হ্যাটট্রিক। ওই ওভারে মাত্র ৫ রান খরচ করে শেষ ওভারে আফগানিস্তানকে জয়ের জন্য ২০ রানের কঠিন সমীকরণে ঠেলে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তান থামে ১৩৬ রানে। ১৫ রানের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হারের স্বাদ কিছুটা হলেও মিষ্টি করতে পারল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে রোমারিও শেফার্ড ও জেসন হোল্ডারের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের তৃতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করলেন স্প্রিঙ্গার। এই সিরিজেই আগের ম্যাচে আফগান স্পিনার মুজিব উর রহমানও হ্যাটট্রিক করেছিলেন। ফলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি হ্যাটট্রিকের বিরল দৃশ্য দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। এর আগে ব্যাট হাতে ৭ উইকেটে ১৫১ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অধিনায়ক ব্রেন্ডন কিংয়ের ৪৭ রানের ইনিংসের সঙ্গে শেষ দিকে স্প্রিঙ্গারের ৯ বলে অপরাজিত ১৬ রান বড় ভূমিকা রাখে। আফগানিস্তানের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন রশিদ খান, জিয়াউর রহমান ও আবদুল্লাহ আহমদজাই। টি-টোয়েন্টিতে প্রথম বোলার হিসেবে ৭০০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছাতে রশিদের এখন দরকার আর মাত্র ৬ উইকেট।আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ে গুরবাজের ৭১ ও ইব্রাহিম জাদরানের ২৮ ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি। দুবাইয়ে ছয়বারের চেষ্টায় এটিই ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম জয়।

