২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

চলছে জোর প্রচারণা ও প্রতিশ্রুতির বন্যা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সারা দেশে জোর প্রচারণা শুরু হয়েছে। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকরা। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান নেতৃত্ব দিন-রাত সভা-সমাবেশ করে চলেছেন। ভোটারদের মন পেতে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। তবে নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবার নির্বাচনের ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখবে তরুণ ভোটারদের ভোট। তরুণরা এবার নির্বাচনে বিশেষভাবে সক্রিয়, যেমনটা অতীতে কখনো দেখা যায়নি। তা ছাড়া তাঁরা সংখ্যায়ও অনেক, মোট ভোটারের এক-তৃতীয়াংশই তরুণ।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে তরুণ ভোটাররা সেভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। এ ছাড়া ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনে মূল ভূমিকা ছিল তরুণদের। ফলে তাঁরা এবার ভোট দিতে এবং নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বেশ আগ্রহী। তাঁরা যদি সক্রিয়ভাবে ভোটকেন্দ্রে যান, তাহলে নির্বাচনের ফলাফল যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছয় কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭, নারী ভোটার ছয় কোটি ২৮ লাখ সাত হাজার ৯৪২ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার এক হাজার ২৩৪ জন। ভোটারদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী ভোটার প্রায় চার কোটি ৩২ লাখ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে তরুণ ভোটার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাক্টিভ।
গত তিনটি নির্বাচনে তাঁরা ভোট দিতে পারেননি। ফলে তাঁদের মন বোঝা খুবই কঠিন হবে। তাঁদের নেচার আমরা এখনো জানি না। তবে আসন্ন নির্বাচনে তাঁরা যে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবেন—এটা পরিষ্কার।’ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ২০০৮ সালের পর গত ১৭ বছরে তিনটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও তরুণদের বড় অংশ ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। তাঁদের অনেকের বয়স এর মধ্যে ৩০ পেরিয়ে গেছে। তাঁরা এবার প্রথম ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার মনে হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে তাদের ইশতেহারে পরিষ্কারভাবে তরুণদের স্বার্থ তুলে ধরা। ভোটের চর্চায় তরুণরা যে গুরুত্বপূর্ণ, সেটাও বোঝাতে হবে।’
আসন্ন নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। ২০২৪ সালে নারী প্রার্থী ছিলেন ৯৪ জন, আনুপাতিক হার ছিল ৫.১৫ শতাংশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭৬ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে গত শুক্রবার জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। আনুপাতিক হারে এটি মোট প্রার্থীর মাত্র ৩.৮৯ শতাংশ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণে জানা যায়, লড়াইয়ে থাকা ৫১টি দলের মধ্যে ২০টি দলের নারী প্রার্থী রয়েছে। দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০ জন করে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী)। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ ৩১ দলের কোনো নারী প্রার্থী নেই। ৭৬ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ১৫ জনই স্বতন্ত্র। আমরা চাই, নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকুক। মানুষ নির্ভয়ে এবং স্বাধীনভাবে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ নিক এবং নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুক।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়