৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

রাজনীতিতে ফিরলেন থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অভিসিত

প্রতিদিনের ডেস্ক:
থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অভিসিত ভেজ্জাজিভা আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরেছেন। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে তার এই প্রত্যাবর্তনে ডেমোক্র্যাট পার্টিতে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ের সমীকরণ বদলেছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।ব্যাংককে প্রচারণাকালে রয়টার্সকে অভিসিত বলেন, ‘আমি শুধু জনগণকে একটি বিকল্প দিতে চাই এবং দলকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাই।’ তিনি বলেন, অনেক ভোটার রাজনৈতিক বিকল্পের অভাবে হতাশা প্রকাশ করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনীতিতে ফেরার লক্ষ্য হলো দলের প্রতি জনআস্থা পুনরুদ্ধার এবং দলের দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করা।৬১ বছর বয়সী এই নেতার প্রত্যাবর্তনে ডেমোক্র্যাট পার্টি কয়েক বছর ধরে হারানো রক্ষণশীল ভোটারদের আবার কাছে টানতে সক্ষম হয়েছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে অভিসিত ও তার দলের জনপ্রিয়তা বাড়ার ইঙ্গিত মিললেও বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর পদে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত সমর্থন পাওয়া তার জন্য কঠিন হবে।ডেমোক্র্যাট পার্টির সমর্থক সরকারি কর্মচারী ইউত্তাপুম রত্তনামানি বলেন, ‘অভিসিত পরবর্তী নেতৃত্ব মানুষের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিল, ফলে দল দুর্বল হয়ে পড়ে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অভিসিত দক্ষ, যোগ্য ও সৎ।’ এই কারণেই তার পরিবারের একাধিক সদস্য আবার ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনে ফিরেছেন বলে জানান তিনি।রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ওলার্ন থিনবাংতিয়ো বলেন, অভিসিতের প্রত্যাবর্তনে দলের সমর্থন বেড়েছে এবং রক্ষণশীল ভোট বিভক্ত হওয়ার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন ভূমজাইথাই পার্টি দুর্বল হতে পারে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নিডা)-এর সাম্প্রতিক জরিপে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীদের তালিকায় অভিসিত তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। একই জরিপে ডেমোক্র্যাট পার্টি সামগ্রিকভাবে চতুর্থ স্থানে থাকায় ভবিষ্যৎ জোট সরকার গঠনে দলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অভিসিত। ওই সময় ব্যাপক বিক্ষোভ ও ২০১০ সালে সামরিক অভিযানে ৯০ জন নিহত হওয়ার ঘটনা তার শাসনামলকে বিতর্কিত করে তোলে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযানের সমালোচনা করলেও পরবর্তীতে থাই আদালত তার ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ফৌজদারি মামলা খারিজ করে দেয়।ডেমোক্র্যাট পার্টির পুনরুত্থান সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ থাইল্যান্ডে, যেখানে ঐতিহ্যগতভাবে দলটির শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সঙখলা প্রদেশে সাম্প্রতিক এক জরিপে অভিসিত শীর্ষ পছন্দ হিসেবে উঠে এসেছেন। তবে দেশের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী এলাকা ব্যাংককে আসন জয় করা ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়