প্রতিদিনের ডেস্ক:
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে নাটকীয়তার শেষ নেই। বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে একপর্যায়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল পাকিস্তান। পরে আইসিসি ও বিসিবির সঙ্গে বৈঠকের পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তারা। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ। তবে এত আলোচনা-উত্তেজনার মাঝেও প্রশ্ন উঠেছে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে কি আগের মতোই গুরুত্বপূর্ণ রয়েছে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ? নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় আইসিসির সম্ভাব্য প্রায় ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার লোকসান এড়ানোর কথা শোনা গেলেও, বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছেন সম্প্রচার ব্যবসার অভিজ্ঞরা। নিও স্পোর্টসের সাবেক মালিক এবং আইসিসির একাধিক বিডিং প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞ হারিশ থাওয়ানি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস–কে বলেন, এখন আর একটি ম্যাচের ওপর সম্প্রচারকারীদের পুরো বিনিয়োগ নির্ভর করে না। তার ভাষ্য, বর্তমানে আয়ের বড় অংশ আসে সাবস্ক্রিপশন থেকে। আগে যেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ আয় হতো বিজ্ঞাপন থেকে, এখন সেই চিত্র বদলে গেছে।
থাওয়ানির মতে, ‘শুধু ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে কেউ হটস্টার থেকে সাবস্ক্রিপশন বাতিল করবে এমনটা নয়। একটি ম্যাচের চেয়ে টুর্নামেন্টে ভারতের সামগ্রিক অগ্রগতিই সম্প্রচারকারীদের বিনিয়োগ ফেরতের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আরও জানান, কিছু বিজ্ঞাপনদাতা কেবল ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে ঘিরে বাড়তি মূল্য দিয়ে বিজ্ঞাপনের সময় কিনে থাকেন। তবে সাধারণত বিজ্ঞাপনের স্লট ধাপে ধাপে বুক করা হয় ভারতের লিগ পর্ব, সুপার এইট ও নকআউট ম্যাচকে কেন্দ্র করে। আইসিসির আয়ের বড় অংশই আসে ভারতীয় বাজার থেকে, ফলে ভারতের পারফরম্যান্স সম্প্রচারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর।
এদিকে মাঠের লড়াইয়েও পরিসংখ্যান বলছে ভারতের দাপটের কথা। আইসিসি ইভেন্টে দুই দলের ২১ দেখায় ভারত জিতেছে ১৭টিতে, পাকিস্তান মাত্র ৪টিতে। বিশ্বকাপে ভারতের ব্যবধান ১৪-১। চলমান টুর্নামেন্টে পাকিস্তান জিতেছে তাদের দুই ম্যাচ, ভারতও একটি জয় তুলে নিয়েছে এবং আজ দ্বিতীয় ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে খেলবে সূর্যকুমার যাদবের দল। সব মিলিয়ে, আবেগ ও ইতিহাসে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আবেদন অটুট থাকলেও সম্প্রচার ব্যবসার বাস্তবতায় বদলে যাচ্ছে হিসাব-নিকাশের সমীকরণ।

