২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

ভোমরা বন্দরে তল্লাশি: গাঁজা-মদ ও ফেনসিডিলসহ আটক ৫ : ট্রাকসহ ৩০ লাখ টাকার মালামাল জব্দ

দেলোয়ার হোসেন, ভোমরা
মাদক পাচার ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে ভোমরা সীমান্ত বন্দরের বৈধরুটে চলছে বাংলাদেশ-ভারতের পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের অবৈধ মাদক পাচার। বাংলাদেশের রপ্তানী পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের মধ্যে ভারত থেকে বিভিন্ন প্রকারের মাদক পাচারের প্রবণতা বাড়ছে দিন দিন। কোন প্রকার ঝুঁকি ও ঝামেলা মনে করছে না এসব ট্রাক চালকরা। মাদক পাচারের মধ্যে দিয়ে তারা লুঠতে চায় অধিক অর্থ। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশী ট্রাক চালকদের মধ্যে মাদক পাচারের প্রবণতা দেখা দেওয়ায় সীমান্ত প্রশাসন এখন কঠোর। ভারত থেকে ফিরে আসা প্রতিটি আনলোডকৃত রপ্তানী পণ্যবাহী ট্রাক গুলোর প্রতি নজরদারী বিজিবিসহ অন্যান্য প্রশাসনের। বৃহস্পতিবার (৭ই মার্চ ২০২৪) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঘোজাডাঙ্গা স্থলবন্দর থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশী একটি আনলোডকৃত রপ্তানী পণ্যবাহী ট্রাকের (যার নং- যশোর-ট-১১-৩৫৯২) চালক কেবিনে তল্লাশি চালায় (আইসিপির) বিজিবি জোয়ানরা। ট্রাকের কেবিনে তল্লাশিকালে ভারতীয় আমদানী নিষিদ্ধ ১১ বতল মদসহ যশোর জেলার বেনাপোল বন্দরের কাগজপুকুর গ্রামের গোলাম হোসেনের পুত্র, ট্রাক চালক শরিফুল ইসলাম (৩০) এবং একই জেলার কাকমারী গ্রামের হাসেম আলীর পুত্র ঐ ট্রাকের খালাশী আলামিন (২২) কে আটক করে বিজিবি সদস্যরা। আমদানী নিষিদ্ধ অবৈধ মাদকদ্রব্য পাচারের অপরাধে পণ্যবাহী ট্রাকটি ও জব্দ করে তারা। ভোমরা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার জাহিদ শিকদার জানান, ভারত থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশী রপ্তানী পণ্যবাহী ট্রাকের ড্রাইভার কেবিনের নিচে লুকিয়ে রাখা ১১ বোতল মদ পাচার করে আনার সময় ট্রাকসহ চালক ও খালাসীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত মদ ও ট্রাকের সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩০ লক্ষ ১৬ হাজার ৫ শত টাকা। ওই দিন জব্দকৃত ট্রাক এবং মাদক পাচারের অপরাধে ট্রাক চালক ও খালাসীকে সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নে পাঠানোর পর তাদেরকে সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে কোম্পানি কমান্ডার নিশ্চিত করেন। উল্লেখ্য যে, এর আগেহ বাংলাদেশী ট্রাকের টুলবক্সে তল্লাশী চালিয়ে ১৬৫ বোতল ফেনসিডিল আটক করা হয়েছে। এদিকে মাদকের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে ভোমরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে শুরু হয়েছে মাদক বিরোধী অভিযান। জেলা পুলিশের ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে আটক হয়েছে সীমান্তবর্তী দাসপাড়া এলাকা থেকে মৃত পরিতোষ দাসের পুত্র অমল দাস (৩২) কে ৬৫ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে ডিবি পুলিশ। গত এক মাসের ব্যবধানে লক্ষীদাঁড়ী সীমান্তের ঠাকুরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মৃত মোহর আলীর পুত্র রবিউল ইসলাম (৪০) কে দেড় কেজি গাঁজাসহ আটক করে সদর থানা পুলিশ। এ ছাড়া ভোমরা দাসপাড়া এলাকা থেকে ২ শ গ্রাম গাঁজাসহ কবিতা দাস (৪০) কে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ভোমরা ও লক্ষীদাঁড়ী সীমান্তবর্তী এলাকায় পুলিশের অভিযানে তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মহিদুল ইসলাম। মাদক ব্যবসার অপরাধে ধৃত তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে মাদক মামলায় আটক দেখিয়ে কোর্ট হাজতে পাঠানো হয়। বর্তমানে তারা হাজতবাসে রয়েছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়