২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

আমড়াখালী থেকে এস এ পরিবহন থেকে বিপুল পরিমান ভারতীয় পণ্য আটক

সুন্দর সাহা
বেনাপোলের আমড়াখালী থেকে এস এ পরিবহন নামে একটি কুরিয়ার সার্ভিস থেকে বিপুল পরিমান ভারতীয় কসমেটিক্স উদ্ধার হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) রাত ৮ টার সময় বেনাপোল থেকে ঢাকাগামী এস এ পরিবহনের ( ঢাকা ম মেট্রো-উ-১৪-২০১৩) নং গাড়ি থেকে ২৪ কাটুন ভারতীয় অবৈধ চোরাচালানী পন্য উদ্ধার করে। এসময় আমড়াখালী বিজিবি চেকপোষ্টে ওই সকল আটককৃত মালামালের দাবিদার চোরাচালানী সোবাহান-জসিম-মাসুদ-রিপন সিণ্ডিকেটের সদস্য কয়েকজন নারী-পুরুষদের দেখা যায়। কিছু মহিলা এসময় রাস্তায় শুয়ে পড়ার হুমকি দেয় উপস্থিত বিজিবি সদস্যদের। দায়িত্বরত একজন বিজিবি সদস্য বলেন, গাড়ি থেকে ২৪ কাটুন কসমেটিক্স জাতীয় পন্য নামানো হয়েছে। যার কোন বৈধ কোন কাগজ পত্র নেই। মেঙ্গলবার পন্য গননা করে জানা যাবে কত টাকার পন্য।
বেনাপোলের সূত্রগুলো জানায়, বেনাপোল প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের বেনাপোল ল্যাগেজ পাচার সিন্ডিকেট ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অতীতের ন্যায় এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই চলছে রমরমা শুল্ক ফাঁকি ও হুন্ডি ব্যবসা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে রফা করে গড়ে ওঠা এসব ল্যাগেজ পাচার সিন্ডিকেটের সদস্যরা আবারও শুল্ক ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য পাচার করে আনছে। ল্যাগেজ পাচার সিন্ডিকেটের হিস্যা আাদায়কারী আলোচিত কিলার আসামি সোবাহান, ধর্ষণ মামলার আসামি জসিম উদ্দিন, হুণ্ডি রিপন, মাসুদ শেখ (হিজড়া মাসুদ)সহ এই চক্রের সদস্যরা ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের দাবি এই চক্রের সাথে কাস্টমসের বিপথগামী কর্মকর্তারা জড়িত। বেনাপোল কাস্টমসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যদি বিজিবির সিসি ক্যামেরা, কাস্টমের সিসি ক্যামেরা, স্থলবন্দরের সিসি ক্যামেরা ও আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সামনের বিজিবির টেবিলে থাকা সিসি ক্যামেরা চেক করলে বেরিয়ে পড়বে এই সিণ্ডিকেটের সানেনজুল। সূত্র জানায়, বেনাপোল চেকপোস্টে ল্যাগেজ পাচার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে ক্ষমতাধর হুণ্ডি ব্যবসায়ী রিপন, আলোচিত মাসুদ শেখ (হিজড়া মাসুদ), জবাই করে হত্যা মামলার আসামি সোবাহান, ধর্ষণ মামলার জসিম উদ্দিন, জিয়াউর, সাহাবুদ্দিন, রফিকুল, সোহেল, ইদ্রিস আলী, রানা, সবুজ, হৃদয়, আলিম, ফরিদ, লিটন, টুকুসহ অর্ধ শতাধিক ক্যাডার। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যাসেজ করে এ সিন্ডিকেট চালিয়ে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে আলোচিত সোবাহানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সিণ্ডিকেটের ক্যডাররা শুধু ল্যাগেজ ব্যবসা করে না। তারা ল্যাগেজ ব্যবসায়ের সাথে সাথে আমদানিকৃত পণ্যের ট্রাকের উপরে করে চোরাচালানী পণ্য পাচার করে এনে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। সব বড় ল্যাগেজ ব্যবসায়ী হচ্ছে মাসুদ শেখ (হিজড়া মাসুদ), জসিম উদ্দীন ও হণ্ডি রিপন। চেকপোস্টে কয়েকজন দোকানদার বলেন, ভারত থেকে কোনো ল্যাগেজ পাটি আসলে সোবাহান ও মাসুদ শেখ ও কালু লিবারের সাথে কথা বললে মালামাল কাস্টমসহ সব ঘাট ম্যানেজ করে সুন্দর ভাবে চলে যায় বিভিন্ন কুরিয়ারে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পণ্য পাচার এসএ পরিবহণ এবং সুন্দরবন পরিবহণে। অন্যান্য কুরিয়ারেও পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকার চোরাচালানী পণ্য। এভাবে বিভিন্ন সিণ্ডিকেট লুটেপুটে খাচ্ছে। সোমবার বেনাপোলের আমড়াখালীতে এসএ পরিবহণের মাত্র একটি গাড়ি থেকে মিলেছে ২৪ কাটুন কসমেটিক্স জাতীয় পন্য। একই পদ্ধতিতে যদি কুরিয়ার সার্ভিসের সব গাড়িতে তল্লাশী চালানো হয় তাহলে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার চোরাচালানী পণ্য আটক করা সম্ভব হবে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়