৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

হাদি হত্যার অধিকতর তদন্ত ১০ বারের মত পেছালো

প্রতিদিনের ডেস্ক:
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পেছানো হয়েছে। এ নিয়ে দশমবারের মতো সময় পিছিয়ে আগামী ১৯ এপ্রিল নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) তদন্ত সংস্থা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন এ তারিখ ধার্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান।হাদি হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) এর সহকারি পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা।এর আগে গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তবে সেই অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানায় ইনকিলাব মঞ্চ।১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে, বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য সময় চান। আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। ওইদিন অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে তিনি নারাজি আবেদন করেন। পরে আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে প্রদান করে।জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসা হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরবর্তীতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে প্রথমে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে এতে হত্যা (৩০২ ধারা) যুক্ত করা হয়। মামলার তদন্ত শুরুতে থানা পুলিশ এবং পরে ডিবি পুলিশের কাছে ন্যস্ত করা হয়েছিল।তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ।আসামিরা হলেন- প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। তাদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।অভিযোগপত্রে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। পাশাপাশি আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করাও হামলার উদ্দেশ্য ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়