নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে হামের প্রাদুর্ভাব ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সংক্রমণ বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে, পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচিও শুরু হতে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (৩১ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ১ এপ্রিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত) নতুন করে ৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ১০ জন শিশুসহ মোট ২০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া আরও অনেক শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ইতোমধ্যে সব সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। যশোর জেনারেল হাসপাতালেও হাম ও পক্সসহ সংক্রামক রোগের চিকিৎসায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত সংক্রামক রোগে কোনো মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার অফিস খোলার পর জেনারেল হাসপাতালের পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে বিস্তারিত জানানো হবে। তিনি আরও জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী সপ্তাহ থেকে যশোরে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হবে এবং জেলায় টিকার কোনো সংকট নেই। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি উচ্চমাত্রার জ্বর বা শরীরে র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এদিকে, সংক্রামক রোগ পরিস্থিতির মধ্যেই যশোরে চিকেন পক্সে আক্রান্ত হয়ে শহীদ মোড়ল (৭০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় যশোর জেনারেল হাসপাতালের সংক্রামক ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের জঙ্গলবাধাল গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. আহসান কবির বাপ্পি জানান, হাসপাতালে আনার আগেই রোগীর শারীরিক অবস্থা জটিল ছিল। প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হলেও বয়সজনিত কারণে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সব মিলিয়ে, যশোরে হামের বিস্তার ঠেকাতে একদিকে যেমন চিকিৎসা প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে, অন্যদিকে টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিরোধে জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

