২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

যে কারণে খালাস পেলেন সগিরার ভাসুর ও তার স্ত্রী

প্রতিদিনের ডেস্ক:
তিন যুগ আগে পারিবারিক দ্বন্দ্বে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে সগিরা মোর্শেদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় নিহতের ভাসুর ডা. হাসান আলী চৌধুরীর, তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহীন ও মন্টু মোড়লকে খালাস দিয়েছেন আদালত।পারিবারিক বিরোধে হত্যার বিষয়টি মামলার বাদী প্রমাণ করতে না পারায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে বলে রায়ের পর্যাবেক্ষণে বিচারক উল্লেখ করেন।বুধবার (১৩ মার্চ) ঢাকার বিশেষ দায়রা জজ মোহাম্মদ আলী হোসাইনের আদালত আসামি আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান ও মারুফ রেজার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বাকি তিনজনকে খালাস দেওয়া হয়।আসামি পক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, পারিবারিক বিরোধে হত্যার বিষয়টি মামলার বাদী প্রমাণ করতে না পারায় নিহতের ভাসুর ডা. হাসান আলী চৌধুরীর, তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহীনকে খালাস দেওয়া হয়েছে বলে বিচারক রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন। এছাড়া আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান ও মারুফ রেজার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে রা সন্তুষ্ট নয়। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবো।রায় ঘোষণার পর সগিরার মেয়ে সামিয়া সাবা চৌধুরি (৩৮) বলেন, ঘটনার সময় আমার বয়স ছিল ছয় বছর। আমার বড় বোনকে আনার জন্য মা গিয়ে ছিলেন। আমি বাসায় ছিলাম। আমার মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছেন ডা. হাসান আলী চৌধুরী ও স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহীন। তারা রায়ে খালাস পেয়ে গেছেন। পরিকল্পনাকারী কীভাবে খালাস পায়। আমরা রায়ের সন্তুষ্ট না। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবো। মামলার বাদী ও সগিরা মোর্শেদের স্বামী আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন,রায়ে আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়।দুই জনের রায়ে সন্তুষ্ট আর দুই জনের রায়ে সন্তুষ্ট নয়।রায় আরো ভালো হতে পারতো।আমরা আপিল করবো।১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই সগিরা মোর্শেদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় সগিরার স্বামীর করা মামলায় মারুফ রেজা ও আনাস মাহমুদকে আসামি করা হয়।২০২০ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, সগিরা মোর্শেদের পরিবারের সঙ্গে আসামি শাহীনের বিভেদ তৈরি হয়েছিল। এছাড়া শাশুড়ি সগিরাকে অপছন্দ করতেন এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সগিরা-শাহীনের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। সম্বোধন করা নিয়েও ছিল পারিবারিক দ্বন্দ্ব।অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, সগিরার কাজের মেয়েকে মারধর করেন আসামি ডা. হাসান আলী চৌধুরী। এ নিয়ে পারিবারিক বৈঠকে সগিরাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন শাহীন। আসামিরা নিজেদের বাসায় বসে সগিরাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ডা. হাসান আলী তার চেম্বারে অন্য আসামি মারুফ রেজার সঙ্গে ২৫ হাজার টাকায় হত্যার চুক্তি করেন। চুক্তি করা ২৫ হাজার টাকার মধ্যে মারুফ রেজাকে ১৫ হাজার টাকা দেন হাসান আলী। ১০ হাজার টাকা পরে দেওয়ার কথা বললেও আর দেননি। ২০২১ সালের ২ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত সগিরা মোর্শেদের ভাসুরসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩১ বছর পর এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়। এরপর গত বছরের ১১ জানুয়ারি মামলার বাদী ও সগিরা মোর্শেদের স্বামী আব্দুস সালাম চৌধুরী আদালতে সাক্ষ্য দেন। এর মধ্য দিয়ে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এ মামলায় ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়