১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

আসছে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে দেশে বিনিয়োগে স্থবিরতা নেমেছে, বহু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, বেকারত্ব আকাশচুম্বী হয়েছে, মূল্যস্ফীতি ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, সরকারি কর্মকর্তাদের পে স্কেল বাস্তবায়নের চাপ রয়েছে—এমন পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের সামনে এসেছে প্রথম বাজেটের বিপুল চ্যালেঞ্জ। একে আরো কঠিন করে তুলেছে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানিসংকট। অর্থাৎ সরকারকে একদিকে অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে বহুমুখী উদ্যোগ নিতে হবে; অন্যদিকে নির্বাচনী ইশতেহার বা জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা যাতে চালু হয়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে; বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করে বিপুল বেকারত্বের অবসান করতে হবে।অর্থনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব মোকাবেলা করে কার্যকর বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন অত্যন্ত দুরূহ কাজ হবে।
অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ফিন্যানশিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মামুন রশীদ বলেন, একদিকে সরকারের রাজস্ব আদায় তথা সব আয় কমছে; অন্যদিকে নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে। উপরন্তু সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির চাপ ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাড়ছে জ্বালানির দাম।পণ্য জাহাজীকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও শিল্পের কাঁচামালের দাম। কাজেই আসন্ন বাজেট সরকারের জন্য অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে আট লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকা বেশি।
এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ছয় লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা ধরা হলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে দুই লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। এই ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দুই লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ২ শতাংশ) সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হবে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে আসবে এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই হবে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যেখানে আয় বাড়ানোই চ্যালেঞ্জ, সেখানে বড় অঙ্কের বাজেটে করের বোঝা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সেটি হলে চাপ বাড়বে ব্যবসায়ী-ভোক্তার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জ্বালানিসংকট, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি—এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই দিতে হবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট।এমন পরিস্থিতিতে দেশে শিল্প খাতের বিদ্যমান সংকট মোকাবেলা করে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত শনিবার দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা জ্বালানিসংকট মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, কর ও নীতিগত সংস্কার, বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রস্তাব এবং শিল্প খাতের দীর্ঘমেয়াদি চাহিদাগুলো তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন, পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে এবং কিছু সমস্যা তাৎক্ষণিক সমাধানেরও নির্দেশ দেন তিনি। আমরা আশা করি, আগামী বাজেট হবে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এবং বিনিয়োগবান্ধব। অর্থনীতির প্রাণ বেসরকারি খাতকে গতিশীল করে দেশে কর্মসংস্থানকে এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি দারিদ্র্য নিরসন, সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়ানো, স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোসহ সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যাপক পদক্ষেপ নিতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়