৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

মশ্বিমনগরে অসহায় নারীদের নিয়ে ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠানের আয়োকে অ্যাড.এম.এ গফুর

উত্তম চক্রবর্তী,রাজগঞ্জ
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বন্যাকবলিত মশ্বিমনগর ইউনিয়নের ভরতপুর গ্রামে ৮ শো নারী ও শিশুদের নিয়ে ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন মশ্বিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের বারবার নির্বাচিত সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান, যশোর জেলার উকিল বারের আইনজীবি সমিতির বারবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ গফুর। শনিবার ১৮এপ্রিল দুপুরে নিজ গ্রামের বাড়িতে দুপুরে খাওয়ার জন্য পত্র দিয়ে আমন্ত্রণ জানান। এরপর যথা সময়ে তালিকাভূক্ত গরীব, অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিতরা তার বাড়িতে আসেন এবং দুপুরে এম.এ গফুর নিজ হাতে তাদেরকে বিরানী ভাত, মাংস খেতে দেন। ব্যতিক্রম ধর্মী এ আয়োজন দেখতে যশোর ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়াম্যান, শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকরা পর্যন্ত ওই বাড়িতে হাজির হন। দাওয়াত খেতে আসা বন্যাকবলিত মশ্বিমনগর ইউনিয়নের ভরতপুর গ্রামের আকলিমা বেগম (৬৫) আমেনা বেগম (৬০) জরিনা বেগম (৭০) বিধাব শাহিদা (৫৫) সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘদিন তারা ভালো মানের খাদ্যখাবার খেতে পারিনি।আজকে পেটভরে অনেক ভালো মানের খাদ্যখাবার খেতে পেরে তারা অনেক খুশি। এছাড়া তাদের অঞ্চলের যে কোন অনুষ্ঠানে তাদেরকে কেউ দাওয়াত করে না। তাদের দুঃখ দুর্দশার কথা সমাজের কেউ কোনদিন চিন্তাও করে না। তাইতো তাদের কথা একমাত্র চিন্তা করে এম.এ গফুর। তিনি এ সকল হত দরিদ্রদের দাওয়াত দিয়ে নিজ হাতে পেটভরে খেতে দিলেন।অনুষ্ঠানটি দেখতে আসা মশ্বিমনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনছার আলী ও উপজেলার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নুরমোহাম্মদ মোড়ল মোশারফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী সমাজসেবক আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, ২০০০ সালে মশ্বিমনগর ইউনিয়নে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। ওই বন্যায় ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবারকে সর্বস্বান্ত হতে হয়। ওই বছর কোরবানি ঈদের একদিন পর বন্যাকবলিত এ ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের গরীব দুঃখি অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিত এবং পানিবন্ধী মানুষদের নিয়ে সর্বপ্রথম দুস্থ মেলার আয়োজন করেন এ্যাডভোকেট এম.এ.আব্দুল গফুর। বন্যাদুর্গত অঞ্চল হওয়ায় ওই আয়োজনটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে টানা ২৬ বছর ধরে। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে শুধুমাত্র অসহায় নারী ও শিশুদের নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তারা আরো জানান এ ধরণের অনুষ্ঠানে আসতে পেরে তারাও খুব আন্দিত। এ্যাডভোকেট এম.এ.গফুর তার ভরতপুর গ্রামস্থ নিজ বাড়িতে এ আয়োজন করেন এ অনুষ্ঠান। যে কোন অনুষ্ঠানে সাধারণত সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিদেরকে আমন্ত্রণ করা হয়। কিন্তুু এম.এ গফুর তার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের ভরতপুর নিজ এলাকার অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিত নারীদের দাওয়াত দিয়ে গত ১৮ এপ্রিল দুপুরে নিজ হাতে আমন্ত্রিত অতিথিদের খাওয়ান। এব্যাপারে অনুষ্ঠানের আয়োজক এম এ গফুর জানান, গ্রামের অসহায় নারীদের নিয়ে এ ধরণের ভিন্নধর্মী ও ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। তাই ছোট পরিষরে এ আয়োজন। তবে প্রতিবছরই এ আয়োজন অব্যাহত থাকলে বলে জানান এম এ গফুর। উল্লেখ্য প্রতি বছর ঈদুল আযহার পরের দিন অনুষ্ঠিত হয় সেই ভিক্ষুকদের মিলন মেলা| এবারও যথা সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান এ আয়োজক।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়