প্রতিদিনের ডেস্ক
উগান্ডার কিবালে ন্যাশনাল পার্কে বসবাসরত শিম্পাঞ্জিদের মধ্যে বিরল এক ‘গৃহযুদ্ধ’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, একসময় শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস করা এই বৃহৎ শিম্পাঞ্জি গোষ্ঠী এখন বিভক্ত হয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী হামলায় লিপ্ত। নগোগো শিম্পাঞ্জি প্রকল্পের সহপরিচালক অ্যারন স্যান্ডেল জানান, ২০১৫ সালের ২৪ জুন প্রথম অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করা যায়। সেদিন শিম্পাঞ্জিরা হঠাৎ নীরব হয়ে পড়ে, অনেকেই ভীতসন্ত্রস্ত ভঙ্গি প্রদর্শন করে এবং একে অপরকে স্পর্শ করে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে। খবর সিএনএনের। এর আগে প্রায় দুই দশক ধরে ২০০ বেশি সদস্যের এই শিম্পাঞ্জি সম্প্রদায় শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস করছিল। কিন্তু ২০১৫ সালের সেই ঘটনার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। একসময় ঘনিষ্ঠ এই গোষ্ঠী বিভক্ত হয়ে দুটি দলে পরিণত হয়—ওয়েস্টার্ন ও সেন্ট্রাল শিম্পাঞ্জি। গবেষকদের মতে, ওই ঘটনাই ছিল বিভাজনের সূচনা, যা পরে সংঘাতের রূপ নেয়। বর্তমানে এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে নিয়মিত সংঘর্ষ হচ্ছে এবং এতে প্রাপ্তবয়স্ক ও শাবকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনাও ঘটছে। সম্প্রতি ‘সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই সংঘাতকে শিম্পাঞ্জিদের ‘গৃহযুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, এমন ঘটনা প্রায় ৫০০ বছরে একবার ঘটে এবং এর আগে মাত্র একবারই এ ধরনের সংঘাত দেখা গেছে। শিম্পাঞ্জিরা স্বভাবগতভাবেই নিজেদের এলাকা রক্ষায় তৎপর। সাধারণত তারা দলবদ্ধভাবে টহল দেয় এবং প্রতিপক্ষের সদস্য পেলে আক্রমণ চালায়। তবে নগোগোর ক্ষেত্রে একই গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে এই সংঘাত বিশেষভাবে ব্যতিক্রমী।

