আনিছুর রহমান, বেনাপোল
যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহাসিক উলাশী-জিয়া খাল ঘিরে এখন সাজ সাজ রব। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই খালটি দীর্ঘ ১৭ বছরের অবহেলা কাটিয়ে আবারও প্রাণ ফিরে পেতে যাচ্ছে। আগামী ২৭শে এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর উলাশী আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনপদে বইছে উৎসবের আমেজ। নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো এলাকা এখন কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। ১৯৭৬ সালের ১লা নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এই খাল খনন বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় সংস্কারের অভাবে খালটি ভরাট হয়ে মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে। এর ফলে স্থানীয় কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। স্থানীয় কৃষক মনোয়ার হোসেন জানান, খালটি ভরাট হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো।শিার্থী ইমনের মতে, সেচ সুবিধার অভাবে গ্রামীণ অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে পড়েছে।প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ উপলে খালের পাড়ে বিশাল জনসভার মঞ্চ তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের তত্ত্বাবধানে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। খাল পাড়ের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পুরানো ঘরবাড়ি রং করা এবং পাড় পাকাকরণের কাজ চলছে। খালের মাঝখানের শুকনো অংশে দর্শকদের বসার জন্য বিশেষ গ্যালারি ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী এলাকাটি সার্বণিক পর্যবেণ করছে। স্থানীয় শিক্ষক কামরুজ্জামানের মতে, খালটি পুনরায় সচল হলে কৃষি ও মৎস্য খাতে বিপ্লব ঘটবে, যা সামগ্রিকভাবে উলাশীর অর্থনৈতিক চেহারা বদলে দেবে। এছাড়া মৎসজীবিরা ও মাছ আহরন করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে। শিক্ষক আজিজুল হক বলেন, এই খালের সাথে রয়েছে ২২ টি বিলের সংযোগ। ভারত থেকে পানি আসলে এই খাল দিয়ে নেমে যায়। দীর্ঘদিন সংস্কার এর অভাবে এই এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কারন ভারতে যখন পানির চাপ বেশী হয় তখন তাদের গেট খুলে পানি বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেয়।

