১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

রাজগঞ্জে তীব্র গরমে চার্জার ফ্যান ও সোলার পণ্যের বিক্রি বেড়েছে

উত্তম চক্রবর্তী, রাজগঞ্জ
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকায় চলমান প্রচণ্ড গরম ও অব্যাহত লোডশেডিং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় রাতের অন্ধকার কাটাতে ও সামান্য স্বস্তির হাওয়া পেতে অনেকেই ছুটছেন বাজারে। ফলে চার্জার লাইট, চার্জার ফ্যান ও সোলার বিদ্যুতের বিভিন্ন পণ্যের বিক্রি হঠাৎ করে কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। একইসঙ্গে এসব পণ্যের দামও বেড়েছে আকাশছোঁয়া। গত দুই সপ্তাহ ধরে রাজগঞ্জ বাজারের ইলেকট্রনিক দোকানগুলোতে প্রতিদিনই ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় একটি দোকানে চার্জার ফ্যান কিনতে আসা গৌরীপুর গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎ থাকে না দিনে প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা। রাতে আবার কখন যাবে তার ঠিক নেই। বাচ্চা নিয়ে ঘরে থাকা যায় না। বাধ্য হয়েই চার্জার ফ্যানের খোঁজে এসেছি। আগে যেটা ১২০০-১৩০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেটা ২২০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা চাইছে। কী করবো বলেন? অন্যদিকে হানুয়ার মানিকগঞ্জ গ্রামের গৃহবধূ লাইলী বেগম বলেন, রাতে ঘুমানো দায় হয়ে গেছে। ছোট বাচ্চাগুলো কাঁদে গরমে। চার্জার লাইট ছাড়া ঘরকন্নার কাজ করাই যায় না। কিন্তু বাজারে এসে দেখি দাম সব দ্বিগুণ। এরপরও কিনতে বাধ্য হচ্ছি। ক্রেতাদের মতো বিক্রেতারাও জানাচ্ছেন ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা। রাজগঞ্জ বাজারের ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী জাহিদুল হক জানান, লোডশেডিং বাড়ার পর থেকেই প্রতিদিন প্রায় তিন থেকে চারগুণ বেশি পণ্য বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে চার্জার ফ্যান ও সোলার লাইটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে সরবরাহ কম হওয়ায় পাইকারিতে দামের ওপর প্রভাব পড়েছে, তাই খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে। আরেক বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, মানুষ বিপাকে পড়েছে, এটা ঠিক। কিন্তু আমরা তো বেশি দাম নিতে চাই না। দোকানে মাল আনতেই আগের তুলনায় ৩০-৪০ শতাংশ বেশি খরচ হচ্ছে। তাই আগের দামে বিক্রি করাও সম্ভব না।এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ-লোডশেডিংয়ের সময়সূচি না থাকায় জীবনযাত্রার স্বাভাবিক গতি নষ্ট হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ রাখতে পারছে না, ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন, আর শ্রমজীবী মানুষ দিনের পর দিন গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় সচেতন নাগরিক আব্দুল হালিম বলেন, এই এলাকার মানুষ কয়েক মাস ধরেই বিদ্যুতের ভোগান্তিতে আছে। চার্জার লাইট, চার্জার ফ্যান ও সোলার পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বাড়ছে। একইসঙ্গে বাজারে সরকারি মনিটরিং না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি- অবিলম্বে লোডশেডিং কমানো, বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও দরিদ্র পরিবারের জন্য সোলারসহ বিকল্প শক্তির সরঞ্জামে সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হোক। রাজগঞ্জের মানুষ এখন একটাই প্রার্থনা করছেন-বিদ্যুৎ থাক, তবেই গরমের কষ্ট কিছুটা কমুক।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়