১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

প্রেমের প্রলোভনে ধর্ষণ ও অন্তরঙ্গ ছবি ছড়ানো অভয়নগরে যুবক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভনে ধর্ষণ এবং অন্তরঙ্গ ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত শেখ এহসান আহমেদ ফয়সালকে আটক করেছে পুলিশ। সকালে যশোর শহরের শংকরপুর আকবরের মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভাটপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক জুয়েল হোসেন বলেন, বিকেলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।আটক ফয়সাল শহরের শংকরপুর আকবরের মোড় এলাকার শামীম আহমেদ মানুয়ার ছেলে। মামলা সূত্রে জানা যায়, অভয়নগরের পোতপাড়া গ্রামের সোনিয়া আক্তার দিয়ার সঙ্গে ২০২৪ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ফয়সালের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ফয়সাল তাকে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে নিয়ে যান। সেখানে একটি হোটেলে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৫ মে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী, যা বর্তমানে বিচারাধীন। অভিযোগ রয়েছে, মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি মীমাংসার নামে ডেকে নিয়ে তাকে জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। এছাড়া, অভিযুক্ত ফয়সাল তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্নোগ্রাফি আইনে আরও একটি মামলা করেন তিনি। ওই মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে পুলিশ তাকে আটক করে। উল্লেখ্য, ঘটনাটি নিয়ে ভুক্তভোগী সোনিয়া আক্তার দিয়া প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। অন্যদিকে,ফয়সালের পরিবার অভিযোগ করে জানিয়েছে, ভুক্তভোগী তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। টাকা না পেয়ে তিনি মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি করছেন বলে তাদের দাবি।

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়