মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানিসংকটে চতুর্মুখী প্রভাব পড়েছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। এই সংকটের শেষ কোথায়, কিভাবে হবে—তারও সঠিক দিশা পাওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে কিছু অসাধু লোক বাজারে কারসাজি করে সংকটকে আরো বাড়িয়ে তুলছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। খবরে বলা হয়েছে, বিভিন্ন জেলায় কৃষকরা সার ও ডিজেলের জন্য নির্ধারিত ডিলারের কাছে গেলে সরবরাহ ঘাটতির কথা বলে তাঁদের সার-ডিজেল দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু বাইরে বাড়তি দামে ঠিকই পাওয়া যাচ্ছে। রাজশাহীর তানোর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, খোলাবাজারে এমওপি এক হাজার টাকা, ডিএপি এক হাজার ৫০ টাকা এবং টিএসপি এক হাজার ৩৫০ টাকা সরকার নির্ধারিত দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ডিলাররা সংকট দেখিয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে এসব সার বিক্রি করছেন।
শুধু তানোর উপজেলা নয়, রাজশাহীর অন্য উপজেলার পরিস্থিতিও একই। রাজশাহীর বিভিন্ন অঞ্চলে জমিতে এখন পাট, ভুট্টা, পটোল, মরিচ, ঢেঁড়সসহ বিভিন্ন ফসল ও সবজি রয়েছে, কিন্তু সার ও ডিজেলের সংকটে কৃষকদের মাথায় হাত।
জ্বালানিসংকট মোকাবেলায় সরকার প্রথম থেকেই তৎপর রয়েছে। কিছুদিন আগে ‘ফুয়েল পাস’ চালু করেছে।
প্রথম দিকে জ্বালানির দাম না বাড়ালেও গত সপ্তাহে তেলের দাম বাড়িয়েছে। সরকারের তরফ থেকে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, উদ্বেগের কিছু নেই। কিন্তু মাঠের পরিস্থিতি ভিন্ন। কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, জ্বালানিসংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই লোডশেডিং অসহনীয় মাত্রায় চলছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত বুধবার জাতীয় সংসদে ১০ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি দলের পাঁচজন ও বিরোধী দলের পাঁচজন নিয়ে কমিটি গঠনের প্রস্তাব করলে তা গৃহীত হয়।
এদিকে আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে দুই হাজার ২৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। যদিও বিভাগটি প্রায় তিন হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছিল, অর্থ মন্ত্রণালয় তা কাটছাঁট করে কম বরাদ্দের সুপারিশ করেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো কুচক্রীমহল যেন এ সময় তৎপর হতে না পারে, এ জন্য কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

