প্রতিদিনের ডেস্ক:
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান সংঘাতের মধ্যে ঘরছাড়া মানুষের দুর্দশা দিন দিন বেড়েই চলছে। তাদের মধ্যে এক বাস্তুচ্যুত নারী হুদা কামাল মানসুর জানিয়েছেন, যুদ্ধের ভয়াবহতায় নিজের গ্রাম ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে পালাতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।দক্ষিণ লেবাননের আইতারাউন গ্রাম থেকে পালিয়ে আসা হুদা বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ শুরু হতেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বিস্ফোরণের শব্দে চারদিক কেঁপে উঠছিল, আর খুব কাছেই অবস্থান করছিল সেনাবাহিনী। নিরাপত্তাহীন অবস্থায় দ্রুত গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্যাঙ্ক দিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলা হয়।আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে তার অভিযোগ, হামলার পর পুরো গ্রাম প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। হামলায় একটি বাড়িও অক্ষত নেই। বর্তমানে তিনি রাজধানী বৈরুতের একটি স্টেডিয়ামে আশ্রয় নিয়েছেন।সেখানে তিনি ছাড়াও বহু বাস্তুচ্যুত পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।গত ৪৫ দিন ধরে তার ৯ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে সেখানেই বসবাস করছেন হুদা। তিনি বলেন, ‘আশ্রয় পেলেও সেখানে জীবনযাত্রা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। বিদ্যুৎ নেই, তীব্র গরম, মশার উপদ্রব—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত কষ্টকর।
নিরাপত্তাহীনতার কারণে রাতে মোমবাতি জ্বালানোও ঝুঁকিপূর্ণ।’
হুদা আরো বলেন, ‘আগে তিনি আশা করেছিলেন যে যুদ্ধবিরতি হলে মানুষ দক্ষিণাঞ্চলে নিজেদের ঘরে ফিরতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।’তার ভাষায়, ‘প্রতিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার পেছনে ভিন্ন ভিন্ন কারণ দেখানো হয়—আগে বলা হয়েছিল গাজা যুদ্ধ, এখন বলা হচ্ছে ইরান যুদ্ধ। কিন্তু আমরা আর এই যুদ্ধ সহ্য করতে পারছি না। এদিকে চলমান সংঘাতের ফলে আরও গভীর হচ্ছে লেবাননে মানবিক সংকট। সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের ছায়া।

