প্রতিদিনের ডেস্ক:
আসন্ন জাতীয় বাজেটে উত্তরাধিকার কর চালুর কোনও পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, একটি ডাটাবেজভিত্তিক আধুনিক সম্পদ কর (ওয়েলথ ট্যাক্স) ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে সংস্থাটি।শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে এনবিআর ভবনে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ট্যাকসেশন) অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।উত্তরাধিকার কর নিয়ে সাম্প্রতিক বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, কর সংস্কার সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের প্রস্তাবনার মধ্যে বিষয়টি থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কর চালুর কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এখনও উত্তরাধিকার কর প্রযোজ্য নয়, এটি চালু হতে সময় লাগবে।তবে বিকল্প হিসেবে একটি ‘কমপ্লিট ডাটাবেসড ওয়েলথ ট্যাক্স সিস্টেম’ চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ই-রিটার্ন ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পদ কর রিটার্ন যুক্ত করা হবে। অতীতে সম্পদ কর বাতিলের অন্যতম কারণ ছিল সম্পদের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা ও মামলা। এবার সেই মূল্যায়ন পদ্ধতি আইনগতভাবে নির্ধারণ করে স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড) গণনার ব্যবস্থা করা হবে, যা রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।কর প্রশাসনের প্রচলিত কাঠামো নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আমাদের কাজ অনেকটাই গণ্ডিবদ্ধ। এতে কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ কমে যায় এবং নতুন চিন্তার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক সংযোগ বাড়ানো ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা অর্জনের ওপরও জোর দেন তিনি।রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ইলেকট্রনিক ট্যাক্স ডিডাকশন অ্যাট সোর্স (ই-টিডিএস) ভবিষ্যতের ‘রেভিনিউ মেশিন’ হতে পারে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎসে কর কর্তনের তথ্য সরাসরি আয়কর রিটার্নের সঙ্গে যুক্ত হবে, ফলে করদাতার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে প্রক্রিয়া সহজ হবে।তিনি আরও জানান, আমদানি পর্যায়ে প্রদত্ত করের ক্রেডিট এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিটার্নে যুক্ত হচ্ছে। কর কর্মকর্তাদের অ্যাসাইকুডা ডাটাবেজে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়ায় যাচাই প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে। এতে করদাতার ভোগান্তি কমবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।করদাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বিভিন্ন কারণে করদাতাদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এই পরিস্থিতি কাটাতে অডিট নির্বাচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।অনুষ্ঠানে বক্তব্যের একপর্যায়ে বিদায়ী সুরে তিনি বলেন, দায়িত্বের শেষ সময়ে এসে রাজস্ব ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও করদাতাবান্ধব করার উদ্যোগগুলোই ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন আনবে বলে তিনি আশাবাদী।

