দেশে একসময় জঙ্গি হামলার অনেক ঘটনা ঘটেছে। সারা দেশে একযোগে পাঁচ শতাধিক বোমা হামলা হয়েছে। আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, সরকারি স্থাপনাসহ অনেক স্থানেই হামলা হয়েছে। সাংবাদিক, শিক্ষক, বিচারক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীও জঙ্গি হামলার শিকার হয়েছেন।
কয়েক বছর ধরে জঙ্গি হামলা প্রায় অনুপস্থিত ছিল। সম্প্রতি আবারও দেশে বড় ধরনের জঙ্গি হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে গতকাল প্রকাশিত খবরে বলা হয়, এবার জঙ্গিদের লক্ষ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, জাতীয় সংসদ ভবন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর স্থাপনা ও বাহিনীর সদস্যরা, ধর্মীয় উপাসনালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ফলে অনেক দিন পর জঙ্গি ইস্যুতে নড়েচড়ে বসেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।
প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের কাছাকাছি সময়ে অনেক কারাগারে হামলা হয়। সে সময় জেল পলাতক আসামিদের সঙ্গে অনেক জঙ্গিও বাইরে চলে আসে। জানা যায়, জেল পলাতক জঙ্গি এবং নিষিদ্ধ বিভিন্ন জঙ্গি গ্রুপের নাশকতা ও অপতৎপরতার বিষয়টিকে সংবেদনশীল বিবেচনায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে পুলিশ সংবাদ সম্মেলনও করেছে।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সারা দেশে পুলিশ ইউনিটগুলোতে যে চিঠি পাঠানো হয়, তাতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, জঙ্গি সংগঠনের সমর্থক কর্তৃক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হতে পারে। মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধানে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, দেশে সম্ভাব্য হামলা নিয়ন্ত্রণে ওই চিঠিটি মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ সারা দেশে রেঞ্জ ডিআইজি এবং সব জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সব ইউনিটকে দেওয়া হয়েছে। সূত্র বলছে, জেল পলাতক মৃত্যুদণ্ড ও সাজাপ্রাপ্তসহ সারা দেশে এখনো দেড় হাজারের বেশি উগ্রবাদী সক্রিয় রয়েছে। তাদের প্রধান টার্গেটের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জাতীয় সংসদ ভবন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর স্থাপনা ও সদস্য, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র এবং শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছেন, দেশে উগ্রবাদী নেই, জঙ্গি নেই বলে দেড় বছর ধরে যা বলা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।
এসব বলে দেড় বছর ধরে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) সংগঠনটি কার্যত অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বল দৃষ্টিভঙ্গির সুযোগ নিয়ে দেশে উগ্র মৌলবাদীরা নতুন করে সংগঠিত হয়েছে। সামনে দেশে বড় সমাবেশ-অনুষ্ঠানকে বোমা হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, দেশে বর্তমানে ২০টির বেশি জঙ্গি সংগঠন রয়েছে। নানা ছদ্মনামেও তারা কাজকর্ম চালাচ্ছে। এ ছাড়া পাকিস্তানভিত্তিক দুটি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি) ও তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) এজেন্টরা নানা সুযোগে বাংলাদেশে ঢুকছে। তারা বাংলাদেশে সদস্য সংগ্রহ করছে বলেও জানা গেছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্রেপ্তারকৃত একজন জঙ্গির দেওয়া তথ্যে জানা যায়, এলইটি ও টিটিপি বোমা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।বাংলাদেশের মানুষ জঙ্গি সন্ত্রাসের ভয়াবহতা ও নৃশংসতা আর দেখতে চায় না। তাই রাষ্ট্রকে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করতে হবে।

