কর আহরণের অর্থেই রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। সংগত কারণেই কর আহরণের পরিমাণ যত বেশি হবে, দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তত বেগবান হবে। বাংলাদেশের মোট করের প্রায় ৩৫ শতাংশ প্রত্যক্ষ, বাকি ৬৫ শতাংশ হচ্ছে পরোক্ষ কর। কিন্তু এই কর আহরণে প্রয়োজন সঠিক নীতিমালা।কাউকে নিষ্কৃতি দেওয়া, কারো ওপর অত্যধিক বোঝা চাপানো কোনো ভালো করনীতির উদাহরণ নয়। বাংলাদেশে বিষয়টি সে রকমই হচ্ছে।গতকাল খবরে বলা হয়েছে, বেসরকারি চাকরিজীবীদের কাঁধে করের বোঝা বাড়ানো হলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না—তাঁরা নামমাত্র কর দিচ্ছেন। জানা গেছে, সরকারি কর্মচারীরা শুধু তাঁদের মূল বেতনের ওপরই কর পরিশোধ করে থাকেন, কিন্তু বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রায় সব ধরনের আয়ের ওপরই কর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৈষম্যমূলক করনীতি থাকা উচিত নয়। পলিসি রিচার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার বলেছেন, ‘সমতার দিক দিয়ে বিবেচনা করলে সবার জন্য করকাঠামো সমান হওয়া উচিত। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা যেভাবে আয়কর দেবেন, সরকারি কর্মচারীদেরও একই করকাঠামোতে আনা প্রয়োজন। আমি মনে করি, এই বৈষম্য থাকা উচিত নয়। চলতি অর্থবছরে বাজেটে এই প্রস্তাবটি গেছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে প্রস্তাবটি পাস হবে কি না, সেটি বলা যাচ্ছে না।’ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) করনীতি বিভাগের সাবেক সদস্য ড. সৈয়দ আমিনুল করিমও বলেছেন, ‘এক দেশে দুই ধরনের আইন থাকতেই পারে না। এটি বৈষম্যমূলক এবং এটি এখনই সংশোধন করার সময়।’
দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়।
মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমেছে, ব্যয় বেড়েছে। শত শত কলকারখানা বন্ধ। বেকারত্ব ঊর্ধ্বমুখী। আমদানি-রপ্তানিতে মন্থরগতি। বিজিএমইএ জানিয়েছে, বিগত তিন বছরে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রপ্তানি খাতে গতি আনতে কর কমানো, শুল্কছাড় ও নীতি সংস্কারের প্রস্তাব এসেছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর না বাড়িয়েও জিডিপির ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কর আদায় সম্ভব এবং এটি বিদ্যমান আইনেই সম্ভব। রাজস্ব আদায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। এই লক্ষ্য অর্জনে চাই প্রচলিত আইনের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন, নজরদারি এবং করকাঠামোর সংস্কার। একই সঙ্গে করযোগ্য অনেকেই কর প্রদান করেন না, তাঁদের করের আওতায় আনতে হবে।

