১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

এই পিএসজিকে থামাতে পারবে আর্সেনাল? কোন কৌশলে যাবেন আর্তেতা?

প্রতিদিনের ডেস্ক:
ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চ প্রস্তুত। আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় মুখোমুখি হবে আর্সেনাল ও পিএসজি। একদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির দুরন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল, অন্যদিকে সংগঠিত রক্ষণ ও সেট-পিসের শক্তি নিয়ে মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল। সব মিলিয়ে এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল হতে যাচ্ছে কৌশল আর মানসিকতার এক রণক্ষেত্র। লুইস এনরিকের পিএসজি এবারও খেলছে দারুণ ছন্দে। দ্রুত গতির আক্রমণ, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ আর প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। অন্যদিকে আর্সেনাল ফাইনালে উঠেছে ধৈর্য, শৃঙ্খলা আর কঠিন রক্ষণভাগের ওপর ভর করে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—ফাইনালের ভাগ্য গড়ে দেবে কোন বিষয়? ইউরোপিয়ান ফুটবলের মাঝমাঠ এখন ট্যাংকের মতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস ও ওয়ারেন জায়েরে-এমেরি ত্রয়ী।তারা পুরো ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বল দখল, প্রেসিং, দ্রুত পাসিং সহ সবকিছুতেই তারা এগিয়ে।আর্সেনালের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখানেই। ডেকলান রাইসকে কি আরও নিচে নেমে খেলতে হবে? নাকি প্রতিপক্ষের মাঝমাঠে চাপ তৈরি করতে হবে শুরু থেকেই? মার্টিন ওডেগার্ড বা এবেরেচি এজের মতো সৃজনশীল খেলোয়াড়দের রেখে কতটা ঝুঁকি নেবেন আর্তেতা, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
গত দুই মৌসুমে বিভিন্ন দল পিএসজিকে থামানোর চেষ্টা করেছে। কেউ কেউ কিছু সময়ের জন্য সফলও হয়েছে। কিন্তু পুরো ম্যাচজুড়ে পিএসজির ছন্দ ভাঙতে পারেনি প্রায় কেউই।পিএসজির আক্রমণভাগ যেন বহু মাথাওয়ালা দানব। একজনকে থামালেও অন্য কেউ ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে।তবে আর্সেনালের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হতে পারেন খভিচা কাভারেস্খেইয়া।চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১০ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট করা এই জর্জিয়ান উইঙ্গার গতি, শক্তি আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে যেকোনো রক্ষণ ভেঙে দিতে পারেন। তাকে থামানোর দায়িত্ব পড়তে পারে জুরিয়েন টিম্বার বা বেন হোয়াইটের ওপর। ফাইনালে আর্সেনালের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করতে পারে এই লড়াইয়ের ওপর। আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা সাধারণত ফর্মেশন খুব বেশি বদলান না। তবে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ম্যাচে কি চমক দেখাতে পারেন তিনি? সম্ভাবনা আছে আরো রক্ষণাত্মক মাঝমাঠ নিয়ে নামার। ডেকলান রাইসের সঙ্গে মার্টিন সুবিমেন্দি ও মাইলস লুইস-স্কেলিকে একসঙ্গে খেলানোর ভাবনাও আসতে পারে। এতে ডান দিক দিয়ে কাভারেস্খেইয়ার আক্রমণ সামাল দেওয়া সহজ হতে পারে।এমনকি বুকায়ো সাকাকে মাঝখানে খেলিয়ে ডান পাশে আরও পরিশ্রমী বা রক্ষণভাগে সাহায্য করতে পারে এমন কাউকে খেলানোর চিন্তাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।তবে সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে দুই ধরনের ফুটবল খেলেছে পিএসজি। প্যারিসে তারা ছিল আগ্রাসী, দ্রুতগতির এবং বিধ্বংসী। আবার দ্বিতীয় লেগে প্রয়োজনমতো নেমে গেছে নিচু ব্লকে। রক্ষণে শৃঙ্খলা, কৌশলী ফাউল, সময় নষ্ট—সবই করেছে নিখুঁতভাবে।
এমন সাবলীলতার সঙ্গে বিশ্বের সেরা আক্রমণভাগ সামলানো পিএসজিকে এখন আর শুধু আক্রমণনির্ভর দল বলা যাবে না। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের বদলে নিতে পারে এনরিকের দল। আর সেটাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।আর্সেনালের রক্ষণ এ মৌসুমে নানা ধরনের আক্রমণ সামলেছে ঠিকই, কিন্তু পিএসজির মতো এত বৈচিত্র্যময় দলকে থামানো আলাদা চ্যালেঞ্জ।অনেকের মতে, ম্যাচের প্রথম গোলটাই নির্ধারণ করে দিতে পারে ফাইনালের ভাগ্য। বায়ার্নের বিপক্ষে সেমিফাইনালে শুরুতেই এগিয়ে গিয়ে ম্যাচ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেয় পিএসজি। এরপর প্রতিপক্ষের আক্রমণ খুব সহজেই ঠেকিয়ে দেয় তারা।তাই আর্সেনাল যদি শিরোপা জিততে চায়, তাহলে হয়তো আগে গোল করতেই হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বড় মঞ্চের চাপ সামলাতে পারবে তো তারা? প্রশ্নটা আসার কারণ, কারাবাও কাপের ফাইনালে চাপের মুখে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারেনি আর্সেনাল। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের চাপ তার চেয়েও অনেক বেশি।ফাইনালের আগে প্রিমিয়ার লিগের লড়াইও প্রভাব ফেলতে পারে আর্সেনালের ওপর। যদি তারা লিগ শিরোপা জিতে বুদাপেস্টে যায়, তাহলে আত্মবিশ্বাস বাড়বে অনেক। আবার শিরোপা হাতছাড়া হলে হতাশা দলকে ভেঙেও দিতে পারে।অন্যদিকে পিএসজি গত মৌসুমেই এই মঞ্চের স্বাদ পেয়েছে। বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতায় তারা কিছুটা এগিয়েই থাকবে। সেই ব্যবধান ঘোচানোই হবে আরতেতার সবচেয়ে বড় কাজ।
সব মিলিয়ে এবারের ফাইনাল শুধু দুই দলের লড়াই নয়, দুই দর্শন, দুই কৌশল আর দুই মানসিকতার সংঘর্ষও। যেখানে ছোট একটি ভুল, কিংবা এক মুহূর্তের ঝলকই ঠিক করে দিতে পারে ইউরোপ সেরার মুকুট কার মাথায় উঠবে।

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়