১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

তৃতীয় ব্রিটিশ নাগরিক আক্রান্ত, হান্টাভাইরাস নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত?

প্রতিদিনের ডেস্ক:
এমভি হন্ডিয়াস নামের একটি প্রমোদতরীতে ছড়িয়ে পড়া রোগে আরো একজন ব্রিটিশ নাগরিক আক্রান্ত হয়েছেন। সরকারের মতে, এই তৃতীয় ব্যক্তি হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত এবং তিনি এখন দূরবর্তী আটলান্টিক দ্বীপ ট্রিস্টান দা কুনহায় আছেন। জাহাজটি এপ্রিলের মাঝামাঝি সেখানে থেমেছিল।এর আগে আরো দুজন ব্রিটিশ পুরুষের শরীরে এই রোগ ধরা পড়ে।তাদের একজনকে জাহাজ থেকে নামিয়ে নেদারল্যান্ডসে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি এখন স্থিতিশীল আছেন। অন্যজনকে গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যাওয়া হয়, তিনি এখন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।এই প্রমোদতরীতে তিনজন যাত্রী মারা গেছেন। তাদের মধ্যে একজনসহ মোট পাঁচজনের হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া নিশ্চিত হয়েছে। জাহাজটি সপ্তাহান্তে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে একটি বিশেষ বিমানের মাধ্যমে বাকি ব্রিটিশ যাত্রী ও নাবিকদের যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত অন্য ব্রিটিশদের মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। তবে দেশে ফেরার পর তাদের সবাইকে আইসোলেশনে থাকতে বলা হবে। এমভি হন্ডিয়াসের একজন ব্রিটিশ যাত্রী ৫৬ বছর বয়সী মার্টিন আনস্টি এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা, তাকেও নেদারল্যান্ডসে নেওয়া হয়েছে। তিনি এখন ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন। আরেকজন ৬৯ বছর বয়সী ব্রিটিশ যাত্রীকে আগে কোভিড-১৯ ধরা পড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকায় নেওয়া হয়েছিল। তিনি এখন আইসিইউতে আছেন, তবে তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
আরো দুজন ব্রিটিশ নাগরিক যুক্তরাজ্যে নিজেদের বাড়িতে আলাদা (আইসোলেশন) অবস্থায় আছেন।তারা সংক্রমণের সম্ভাব্য ঝুঁকিতে ছিলেন, তবে তাদের কোনো উপসর্গ নেই এবং তারা স্বেচ্ছায় আইসোলেশনে আছেন। এই দুজন সেই ৩০ জন যাত্রীর দলে ছিলেন, যারা ২৪ এপ্রিল দক্ষিণ আটলান্টিকের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে জাহাজ থেকে নেমেছিলেন। এই দলে প্রায় ১২টি দেশের মানুষ ছিল, যার মধ্যে ৭ জন ছিলেন ব্রিটিশ।জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, প্রথম হান্টাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয় ৪ মে। এরপর যারা জাহাজ থেকে নেমেছিলেন, তাদের সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেন্ট হেলেনায় নামা চারজন ব্রিটিশ এখনো সেখানেই আছেন। তাদের কোনো উপসর্গ নেই, তবে তারা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগে আছেন। প্রয়োজন হলে সেখানে চিকিৎসা সহায়তার জন্য ডাক্তার পাঠানো হবে। যুক্তরাজ্যের এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এমভি হন্ডিয়াস জাহাজে থাকা ব্রিটিশ যাত্রীদের দেশে ফেরার পর ৪৫ দিন পর্যন্ত আইসোলেশনে থাকতে বলা হতে পারে। এ ছাড়া, জাহাজে রোগ ছড়ানোর আগে যারা নেমে গিয়েছিলেন, তাদের খোঁজে (কন্টাক্ট ট্রেসিং) আরো কয়েকটি দেশে তদন্ত চলছে। এর মধ্যে সুইজারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসও রয়েছে।
হান্টাভাইরাস নিয়ে কতটা চিন্তিত হওয়া উচিত?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ঘটনাকে গুরুতর বলেছে, তবে সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম বলে জানিয়েছে। তারা আরো বলেছে, এই পরিস্থিতি কোভিড-১৯ মহামারীর মতো নয়। তিনজন ব্রিটিশ নাগরিক হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন নেদারল্যান্ডসে, একজন দক্ষিণ আফ্রিকায় এবং আরেকজন দূরবর্তী আটলান্টিক দ্বীপ ট্রিস্টান দা কুনহায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। ৪ মে প্রথম হান্টাভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়ার আগে, ২৪ এপ্রিল সাতজন ব্রিটিশ নাগরিক সেন্ট হেলেনা দ্বীপে জাহাজ থেকে নেমেছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন এখনো সেখানেই আছেন। এই সাতজনের মধ্যে দুজন ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে ফিরে গিয়ে স্বেচ্ছায় আইসোলেশনে আছেন। তাদের কোনো উপসর্গ নেই। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ওই দলের সপ্তম ব্যক্তিকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।এই রোগ কোথা থেকে ছড়িয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। এ ছাড়া জাহাজের যাত্রী ও নাবিকদের বাইরে আর কেউ আক্রান্ত হয়েছে কি না, সেটাও নিশ্চিত নয়।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস গেব্রেয়াসুস বলেছেন, প্রথম দুজন আক্রান্ত ব্যক্তি পাখি দেখার একটি সফরে আর্জেন্টিনা, চিলি ও উরুগুয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তারা এমন জায়গায় গিয়েছিলেন, যেখানে এই ভাইরাস বহনকারী ইঁদুরের উপস্থিতি ছিল। মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে একজন ছিলেন ৬৯ বছর বয়সী এক ডাচ নারী। তিনি ২৪ এপ্রিল সেন্ট হেলেনায় জাহাজ থেকে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান এবং দুই দিন পর মারা যান। তার স্বামী ১১ এপ্রিল জাহাজেই মারা যান। আরেকজন জার্মান নারীও জাহাজে মারা গেছেন। তবে তারা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত নয়।হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুর বা ছুঁচোর মতো প্রাণী থেকে ছড়ায়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ক্ষেত্রে কাছাকাছি থাকা মানুষের মধ্যেও এটি ছড়াতে পারে। ভাইরাসে সংক্রমিত হলে সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহ পর জ্বর, খুব ক্লান্ত লাগা, পেটে ব্যথা, বমি ও শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দেয়।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, সাধারণভাবে রাস্তায় চলাফেরা বা স্বাভাবিক মেলামেশা থেকে এই ভাইরাস ছড়ায় না। খুব কম ক্ষেত্রে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়ালেও, সেখানে দীর্ঘ সময় খুব কাছাকাছি থাকার মতো ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ ছিল।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়