‘খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবককে ঢাকায় আনার পথে অ্যাম্বুলেন্সে ফের গুলি’, ‘তিন র্যাব সদস্যকে কুপিয়ে জখম’, ‘আন্ডারওয়ার্ল্ডে ফের অস্থিরতা’—এগুলো গতকাল প্রকাশিত খবরের শিরোনাম। এই তিনটি খবরই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতির বিষয়টি আমাদের সামনে আনে। বলা বাহুল্য, এসব খবর উদ্বেগজনক এবং জনমনে আতঙ্ক তৈরি করে।খুলনার ঘটনায় জানা গেছে, গত সোমবার দুপুরে নগরীর লবণচরা এলাকায় দুর্বৃত্তরা রাজু নামে এক যুবকের ওপর গুলি চালায়।
পেটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু গভীর রাতে ঢাকায় আনার পথে রাজুকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে আবার গুলি চালানো হয়। অ্যাম্বুলেন্সচালক মো. ফারুক জানান, গুলির পর তিনি দ্রুত গাড়ি নিয়ে কাটাখালী হাইওয়ে থানায় আশ্রয় নেন।
পরে পুলিশি নিরাপত্তায় রাজুকে ঢাকায় আনা হয়। জানা গেছে, রাজুর বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জে গত মঙ্গলবার বোয়ালিয়া খাল লিচুবাগান এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে র্যাবের তিন সদস্যকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক, অস্ত্রসহ ১০ জনকে আটক করা হয়।এ ঘটনা থেকে আঁচ করা যায়, দুর্বৃত্তরা কতটা বেপরোয়া হয়েছে যে খোদ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ওপরও হামলার সাহস পেয়েছে।আন্ডারওয়ার্ল্ডে অস্থিরতা নিয়ে খবরে বলা হয়েছে, ২০০১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামের তালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকার কেউ বিদেশে, কেউ কারাগারে। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী দেশে ফেরে। কেউ কেউ কারাগার থেকে জামিন নিয়ে বের হয়েছে, কিন্তু পুলিশ এখন তাদের খুঁজে পাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতির মধ্যে গত ২৮ এপ্রিল রাতে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। জানা গেছে, শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আবারও সক্রিয় হয়েছে। এরই মধ্যে রাজধানীর কোন এলাকা কারা নিয়ন্ত্রণ করবে, সেটি নিয়েও নিজেদের মধ্যে ‘সমঝোতা’ হয়েছে।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বর্তমান সরকার বারবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলে আসছে, কিন্তু বাস্তবে আমরা তার প্রতিফলন দেখতে পারছি না। দেশের মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছে না। আমরা মনে করি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

