প্রতিদিনের ডেস্ক
ইতিহাসের খুব কাছ পর্যন্ত গিয়েও শেষ পর্যন্ত থেমে যেতে হলো নাজমুল হোসেন শান্তকে। মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরির সুবর্ণ সুযোগ ছিল বাংলাদেশ অধিনায়কের সামনে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে আক্ষেপই সঙ্গী হলো তার। শেষ দিনের সকালের সেশনে ৮৭ রানে আউট হন শান্ত। আম্পায়ার আঙুল তুলে দেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নিলেও লাভ হয়নি। হতাশ মুখেই ফিরতে হয় তাকে। প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ১০১ রান। এর আগে দুইবার এক টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছেন শান্ত। এবারও সেই কীর্তি গড়তে পারলে ছুঁয়ে ফেলতেন বিশ্বরেকর্ড। টেস্ট ইতিহাসে মাত্র তিন ক্রিকেটার তিনবার করে এক টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরির নজির গড়েছেন। সেই অভিজাত তালিকায় ঢোকার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের এই ব্যাটসম্যানের সামনে। প্রথম এই কীর্তি গড়েছিলেন ভারতের কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার। পরে তার পাশে নাম লেখান অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং ও ডেভিড ওয়ার্নার। শান্তও ছিলেন সেই কাতারে ঢোকার খুব কাছে। তবে শেষ পর্যন্ত হয়তো দলের প্রয়োজনই তার ব্যক্তিগত মাইলফলকের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দ্রুত রান তোলার চাপে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বল মিস করে এলবিডব্লিউ হয়ে যান। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে হয়তো ঝুঁকি না নিয়েই তিন অঙ্ক ছুঁতে পারতেন শান্ত। কিন্তু ইনিংস ঘোষণার আগে দ্রুত রান বাড়ানোর তাড়ায় বাড়তি শট খেলতে গিয়ে শেষ হয়ে যায় তার ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে একাধিকবার এক টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরির কীর্তি এখনো শুধু শান্তরই। প্রথমবার তিনি এটি করেছিলেন ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। মিরপুর টেস্টে সেবার প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ১৪৬ রান, দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৪। এরপর গত বছর গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আবারো দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ১৪৮ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ছিলেন ১২৫ রানে। দুইবার এক টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরির কীর্তিতে বিশ্ব ক্রিকেটে শান্ত এখন আছেন জর্জ হেডলি, হারবার্ট সাটক্লিফ, ক্লাইড ওয়ালকট, গ্রেগ চ্যাপেল, অ্যালান বোর্ডার, আরাভিন্দ ডি সিলভা, রাহুল দ্রাবিড়, ম্যাথু হেইডেন, জ্যাক ক্যালিস, কুমার সাঙ্গাকারা ও ব্রেন্ডন টেইলরের মতো কিংবদন্তিদের পাশে। বাংলাদেশের হয়ে এক টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরির কীর্তি আছে আর শুধু মুমিনুল হকের। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ১৭৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৫ রান করেছিলেন তিনি।

