নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে উদ্ধার হওয়া সেই পরিত্যক্ত গাড়ির মালিকানা দাবিদার হীরা খাতুনের অভিযোগ মিথ্যা ভিত্তিহীন বানোয়াট বলে অভিহিত করেছে যশোর জেলা পুলিশ। মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের আলী হোসেনের স্ত্রী হীরা খাতুন ১১ মে সোমবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে তার গাড়ি আটকের বিষয়ে যশোর পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে যশোর জেলা পুলিশের কার্যালয় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলেছেন, ১১ মে হীরা খাতুন ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ তার রেড ওয়াইন কালারের সিএইচ আর নামক টয়োটা ব্রান্ডের একটি হাইব্রিড গাড়ি (রেজিস্টেশন নং-ঢাকা মেট্রো-২১-৪১১৩) আটক করে।
পরবর্তীতে তার গাড়ি হস্তান্তর না করে অবৈধভাবে তাদের হেফাজতে রেখেছেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের মাগুরা জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক হীরা খাতুন। তার স্বামী মৃত আলী হাসানের বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর ডাকাতি মামলা তদন্তাধীন ছিল। গত ২৭ মার্চ এক ব্যক্তি থানাতে ফোন করে জানান যে, যশোর কোতয়ালী থানা সংলগ্ন রাস্তার বিপরীত পাশে রিচম্যান নামক পোশাকের শোরুমের সামনে রেড ওয়াইন কালারের সিএইচ আর নামক টয়োটা ব্রান্ডের একটি হাইব্রিড গাড়ি

(রেজিস্টেশন নং-ঢাকা মেট্রো-২১-৪১১৩) অনেকক্ষণ যাবৎ পড়ে আছে। গাড়ির মালিক কিংবা ড্রাইভারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সংবাদ পেয়ে কোতয়ালী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায় এবং রাত সোয়া আটটার দিকে বিধিমোতাবেক জিডিমুলে কয়েকজন সাক্ষীর সামনে বেওয়ারিশ হিসেবে পরিত্যক্ত অবস্থায় গাড়িটি জব্দ করে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে হীরা খাতুন কোতয়ালি থানাতে এসে বেওয়ারিশ হিসেবে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া রেড ওয়াইন কালারের সিএইচ আর নামক টয়োটা ব্রান্ডের হাইব্রিড (রেজিস্টেশন নং-ঢাকা মেট্রো-২১-৪১১৩) গাড়িটির মালিক তিনি।

এ সময় থানা পুলিশ তাকে পরামর্শ দেন, গাড়ির সঠিক কাগজপত্র আইন মোতাবেক আদালতে উপস্থাপন করে আদেশ নিয়ে থানায় আসলে গাড়িটি তাকে হস্তান্তর করা হবে। কিন্তু হীরা খাতুন আজও আদালতের কোন আদেশ নিয়ে থানায় আসেননি। ফলে তার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে গাড়ি অবৈধভাবে আটক রাখার অভিযোগটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তিনি যশোর পুলিশের সুনাম ক্ষুন্ন করতে সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। উল্লেখ্য, সোমবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে হীরা খাতুন অভিযোগ করেন, যশোরের একটি গোল্ড পাচার চক্রের হুমকি ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তার স্বামী আলী আহমেদের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুবদল নেতা আনসারুল হক রানা ও গোল্ড শহীদ তার স্বামীর বিরুদ্ধে ১৪ কোটি টাকার সোনা আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। এরই প্রভাবে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি তার স্বামী স্ট্রোকে মারা যান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে তার কলেজপড়ুয়া ছেলেকে যশোরের আরবপুর থেকে প্রাইভেটকারসহ তুলে নিয়ে পাঁচ দিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। মাগুরা জেলা যুবদলের সভাপতি অ্যডাভোকেট ওয়াকিসকুর রহমান কল্লোলের সহযোগিতায় পাঁচ দিন পর ছেলে ও গাড়ি উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরে যশোর কোতোয়ালি থানায় গাড়িটি জমা দেওয়া হয়। কিন্তু কোতোয়ালি থানা গাড়িটি ফেরত দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন হীরা খাতুন। যশোর জেলা পুলিশ গাড়িটি ফেরত না দেওয়ার কারণ জানিয়ে মঙ্গলবার এ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রাজিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাখাওয়াত হোসেন ও কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান।

