১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা

প্রতিদিনের ডেস্ক:
পুনর্গঠনের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। প্রসিকিউশনের কয়েকজন সদস্যের বিতর্কিত কমকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গতি বাড়াতে এমন উদোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।এরই ধারাবাহিকতায় এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে তিনজনকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শিগগির আরও প্রসিকিউটর নিয়োগ হবে। এক্ষেত্রে গুঞ্জন রয়েছে প্রসিকিউশন টিম থেকে বাদ পড়তে পারেন কয়েকজন। তদন্ত সংস্থায়ও আসবে রদবদল। তবে, বিতর্ক এড়াতে কাজটি হবে পর্যায়ক্রমে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা ও আসামির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে তৃতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠনের আলোচনা থাকলেও এখনই সেদিকে এগোচ্ছে না সরকার। আপাতত প্রসিকিউশনে থাকা আইনজীবী এবং তদন্ত সংস্থায় লোকবল বাড়ানোর মধ্য দিয়েই এ কাজটি সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বেঞ্চ অফিসার, সহকারী বেঞ্চ অফিসার, প্রোগ্রামার, ডেসপাস সহকারী ও অফিস সহায়কসহ আরও বেশ কয়েকটি পদে লোকবলের প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মাহমুদুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ট্রাইব্যুনাল-১-এর একজন বিচারকের বেঞ্চ অফিসার ও সহকারী বেঞ্চ অফিসার নেই। আর ট্রাইব্যুনাল-২-এর বেঞ্চ অফিসার ও সহকারী বেঞ্চ অফিসারসহ মোট বেঞ্চ অফিসারই দরকার ৯ জন। এছাড়াও প্রোগ্রামার, ডেসপাস সহকারী এবং অফিস সহায়কও প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাড়িয়ে তৃতীয়টি করা হবে কি না—এ বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী মামলা পরিচালনার জন্য প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা ঢেলে সাজানো হবে। তবে, ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের এখনই কোনো চিন্তাভাবনা নেই।ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে দেশে-বিদেশে কোনো প্রশ্ন উঠার সুযোগ আছে কি না সে বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমি আমার জায়গা থেকে এখন পর্যন্ত বর্তমান ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার মতো কোনো দিক পাইনি, পেলে নিশ্চয়ই আমরা দেখবো।
জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া কোনো কোনো প্রসিকিউটরের মধ্যে কিছুটা গা-ছাড়া ভাব চলে এসেছে। মামলা পরিচালনায় তাদের মধ্যে ততটা অন্তরিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তারা ধরেই নিয়েছেন, এই বিচার কার্যক্রম নিয়ে সরকার প্রকৃতপক্ষে আন্তরিক নয়। ফলে মামলা পরিচালনায় তাদের মধ্যে আগের মতো ক্ষিপ্রতা নেই। তদন্ত সংস্থার কোনো কোনো সদস্যের বিরুদ্ধেও নানান অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে প্রসিকিউশনের হাইকমান্ড।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বিচারাধীন ও তদন্তের আওতায় আসা মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সীমিত সংখ্যক লোকবল নিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হয়। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থায় রদবদল আনা হবে কি না, সেটি একান্তই সরকারের ইচ্ছাধীন বিষয়। তিনি বলেন, তবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রসিকিউশন নিয়মিত পুনর্গঠন করা হচ্ছে। প্রসিকিউশন থেকে কাউকে বাদ দেওয়া এবং নতুন করে কাউকে যুক্ত করাই হচ্ছে প্রসিকিউশন টিম পুনর্গঠন। এটি ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে বলে আমি মনে করি।
প্রসিকিউশন সূত্র মতে, প্রসিকিউশন টিমের সদস্যদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের ঘটনায় ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির কাজ চলছে। একজন প্রসিকিউটর বিচারাধীন মামলার আসামিকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ দাবি করেছেন, এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের বিষয়েও দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলেন আরেক প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ। এসব ঘটনায় বিব্রত প্রসিকিউশন টিম। তাই নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষতা, যোগ্যতার পাশাপাশি নৈতিকতার বিষয়টিকেও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে আমরা আপসহীন। আমি কোনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবো না। তবে, প্রসিকিউশন টিমে কাকে রাখা হবে, কাকে বাদ দেওয়া হবে; এ বিষয়ে আমার তো কোনো এখতিয়ার নেই। সম্পূর্ণ এখতিয়ার সরকারের। তবে এখানে সবাই আমার টিমের সদস্য, আমি সবাইকে সমান দৃষ্টিতে দেখি।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের ২২টিরও বেশি মামলার বিচার চলছে। আর অভিযোগ গঠন ও তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে আর ৪১টির মতো। আওয়ামী লীগ আমলে গুম-খুন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে নৃশংসতার অভিযোগে এসব মামলা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি মামলার ঘোষিত রায়ে ৫৫ জন দণ্ডিত হয়েছেন। আরও কমপক্ষে চারটি মামলার বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দুই ট্রাইব্যুনালে ২২টি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে একটি রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে। তিনটি মামলার কার্যক্রম শিগগির শেষ পর্যায়ে উপনীত হবে। আরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলার বিচার প্রক্রিয়াধীন।এসব মামলায় গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী-এমপিসহ অন্য বেসামরিক ব্যক্তি ৭৪ জন, পুলিশ সদস্য ৬৫ জন, সেনাবাহিনীর বর্তমান ও সাবেক সদস্য ২০ জন ও আনসার সদস্য একজন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়