৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

নিত্যপণ্যে দ্বিগুণ করের প্রস্তাব

বাজার নিয়ন্ত্রণহীন। চাল, ডাল, ডিম, ভোজ্যতেল, সবজি, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী।নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের, বিশেষ করে স্থির আয়ের মানুষের জীবনে রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠে গেছে। গত মাসেও (এপ্রিল) মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.০৪ শতাংশ। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষ কতটা অসহায় হয়ে পড়েছে তা কিছুটা অনুমান করা যায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেল মানুষের লম্বা লাইন থেকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।এমন পরিস্থিতিতেও আসন্ন বাজেটে ধান, চাল, গম, ডালের মতো প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যে বাড়তি কর বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নতুন অর্থবছরে মানুষের দিনযাপন আরো কঠিন হবে। দৈনন্দিন খরচের ফর্দ আরো লম্বা হবে। কিন্তু সেভাবে আয় না বাড়ায় ভোক্তারা অনেক বেশি চাপে পড়বে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা প্রায়শ মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার কথা বলছেন। ভোক্তাদের জন্য বাজার সহনীয় করার কথা বলছেন। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো প্রয়াসই লক্ষ করা যাচ্ছে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, আসন্ন বাজেটে নিত্যপণ্যের স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের উেস কর বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ধান, ধানের কুঁড়া, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মটরশুঁটি, ছোলা, মসুর ডাল, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ডাল, ভুট্টা, আটা, মোটা আটা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেলসহ আরো কিছু পণ্যে এবং সব ধরনের ফল ক্রয়ের জন্য স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের ওপর উেস কর ০.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা চলছে, শত শত কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বেকার হয়েছে লাখ লাখ শ্রমিক। তাদের একটি বড় অংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবার নিয়ে জীবনযাপন করে। অন্যদিকে ক্রমেই বাড়ছে কর্মক্ষম জনসংখ্যা। বেকার তরুণদেরও বড় অংশ বেছে নিয়েছে এই পেশাটি। অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে বর্তমানে কর দিতে হয় না। এনবিআর এখানেও করারোপের প্রস্তাব করেছে। জানা গেছে, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল করমুক্ত। ১১১ থেকে ১২৫ সিসি হলে অগ্রিম আয়কর দুই হাজার টাকা। ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত পাঁচ হাজার টাকা। ১৬৫ সিসির বেশি হলে প্রতিবছর ১০ হাজার টাকা আদায়ের ছক কাটা হয়েছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কর হবে স্থানভেদে ভিন্ন রকম। সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে হলে পাঁচ হাজার, পৌরসভায় হলে দুই হাজার ও ইউনিয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবছর এক হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হবে।
কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, পণ্যের ওপর কর বাড়ানো হলে স্বাভাবিকভাবেই পণ্যটির দাম বেড়ে যাবে। সাধারণ মানুষের কষ্ট ও যন্ত্রণা বেড়ে যাবে। কারণ ব্যবসায়ী নিজের পকেট থেকে কিছু দেন না। জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেন এবং টাকাটা ভোক্তার পকেট থেকে যায়। তিনি বলেন, সরকারের উচিত কর না বাড়িয়ে বিভিন্ন খাতের রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ করা। ফাঁকি বন্ধ করতে পারলেই রাজস্ব আদায় অনেক বেড়ে যাবে।
বাজেটে বাড়তি করের বোঝা সাধারণ মানুষের ঘাড়ে না চাপানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরাও প্রত্যাশা করি, অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতি ও দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত সাধারণ মানুষের জীবনকে আরো দুর্বিষহ করার মতো কোনো পদক্ষেপ বর্তমান সরকার নেবে না। নিত্যপণ্যে অতিরিক্ত করারোপ বন্ধ করতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়