২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

ফারাক্কা বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রতিরোধের প্রতীক: মির্জা ফখরুল

প্রতিদিনের ডেস্ক:
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফারাক্কা এখন বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রতিরোধের প্রতীক। গঙ্গা বা পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হলে দেশের মানুষ, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।শনিবার (১৬ মে) ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মির্জা ফখরুল বলেন, “মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সারাজীবন সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করেছেন। তিনি কখনো ক্ষমতার কাছে মাথানত করেননি। ফারাক্কা লংমার্চের মাধ্যমে তিনি দেশের মানুষকে সংগঠিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের ফলে দেশের প্রায় এক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে। তখনই মাওলানা ভাসানী বিষয়টি উপলব্ধি করে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন এবং একটি কার্যকর চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।”
তিনি বলেন,“ ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ফারাক্কা প্রকল্প চালুর অনুমতি দেওয়ার পর থেকেই দেশের ক্ষতি শুরু হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে চুক্তি হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।” তিনি দাবি করেন, বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। এর পর নতুন চুক্তি করতে হলে তা দীর্ঘমেয়াদি ও জনগণের স্বার্থ রক্ষাকারী হতে হবে।পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হলে দেশের স্বার্থ রক্ষায় বিকল্প উদ্যোগ নিতে হবে জানিয়ে তিনি সরকারের গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “জাতীয় স্বার্থে সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”সরকারবিরোধী অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।”ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আলোচনার মাধ্যমে অবিলম্বে ফারাক্কা চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সমাধানে পৌঁছাতে হবে।” অন্যথায় দুই দেশের সুসম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য আব্দুল মইন খান। এছাড়া, বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়