৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

নবম পে-স্কেল ‘চূড়ান্ত হচ্ছে’ বৃহস্পতিবার, সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন বেতনসহ আলোচনায় যা থাকবে

প্রতিদিনের ডেস্ক:
আগামী অর্থবছরের শুরুতে আগামী ১ জুলাই থেকেই নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার ( ২১ মে) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত কমিটি আবার বৈঠক ডেকেছে।কমিটির সুপারিশ চূড়ান্তের পর তা দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সুপারিশ অনুমোদনের পর জানা যাবে।এদিকে এ বৈঠক থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।জানা যায়, আসন্ন জাতীয় বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে মূল বেতন সমন্বয় করা হবে এবং তৃতীয় বছরে যুক্ত হবে বাড়তি ভাতা, আনুষঙ্গিক সুবিধা ও অন্যান্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা।জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এবং এরপর নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। পুনর্গঠিত কমিটি ইতিমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও আর্থিক সংশ্লিষ্ট সংস্থার মতামত পর্যালোচনা করেছে।সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাস থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন নির্ধারিত মূল বেতনের অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ পাবেন এবং পরবর্তী অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। আর এর পরের অর্থাৎ ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরে নতুন কাঠামোর সঙ্গে আনুষঙ্গিক সব ভাতা ও বাড়তি আর্থিক সুবিধাগুলো যুক্ত হবে।পে-কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অনুযায়ী একবারে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে চাকুরিজীবীরা যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, তা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব মাথায় রেখেই আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।জানা গেছে, নবম পে স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সমন্বিত নির্দেশনা থাকতে পারে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নবম পে স্কেলে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কারণ নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কিছুটা কমিয়ে আনার প্রস্তাবও রাখা হতে পারে।এদিকে, পেনশনভোগীদের সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে। সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন পেনশনের হার শতভাগ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান এমন ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যাদের মাসিক পেনশন ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এ খাতে কতটুকু বরাদ্দ ও সুবিধা কার্যকর করা হবে, তা এখন চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।এছাড়া, নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়